বাইরে ঝিরঝির বাতাস বইছে। মেঘেরা কুয়াশার মতো হয়ে চারিদিক ঘিরে আছে। রান্নাঘরের উপর দিয়ে মেঘ ধোঁয়ার মতো হয়ে আকাশে মিশে যাচ্ছে। সবেমাত্র সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।ইয়েল নকশিকাঁথা গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে। ওর মায়ের পিঠা বানানো এখনও শেষ হয়নি। ওর নাকে ভেসে আসে পিঠারগন্ধ। পিঠারম-ম গন্ধে সারা বাড়ি মাতোয়ারা। ঘুমের মাসিপিসি ইয়েলের দুচোখজুড়ে বসে আছে। এলোমেলো সাতপাঁচ ভাবনায় ঘুমিয়ে পড়ে। বাতাস দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে ওর ঘুম ভেঙে যায়। জেগে দেখে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ে। মাটির ঘরে টিনের চালে বৃষ্টি হলে মনটা আনচান করে ওঠে। রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ তাকে মাতোয়ারা করে তোলে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে। দমকা হাওয়া এসে দোলা দিয়ে যায় জানালার পর্দায়। মুহূর্তেই ঝড়ের বেগ ধীরেধীরে বাড়ে। বাতাসের ধাক্কা এসে লাগে ঘরের উপর। চালের টিন ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ইয়েলবিছানার উপর ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। খোলা জানালার ভেতর দিয়ে একটা আবছা আলো দেখা যায়। বুকের ধড়ফড়ানি আরওবেড়ে যায়। আস্তে আস্তে জানালার কাছে এসে দাঁড়ায় আবছা আলো। বিদ্যুৎ চমকানোর সাথে সাথে দেখা দিয়ে আবার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে বাঁশঝাড় পার হয়ে পুকুরপাড় দিয়ে এগিয়ে আসে। ওর শরীরটা ভয়ে ছমছম করে ওঠে। পরক্ষণেই ডাক আসে,‘ইয়েল, বাইরে বের হয়ে আসো।’
ডাক শুনে মনে হয় পরিচিত মানুষের কণ্ঠস্বর। ওর জিন-ভূতের কথা মনে পড়ে যায়। তারা মানুষের মতোকরে কথা বলতে পারে। আবারও ডাক আসে। ডাক শুনে ওর শরীর দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যায়। দমকা বাতাস এসে প্রচণ্ড ধাক্কা দেয় টিনের চালে। টিনের চালের উপর যা-কিছু আছে ভেঙে পড়বে এক্ষুনি।
‘বাইরে বের হয়ে আসো’,বলে আবার ডাক আসে।ডাক শুনে ইয়েল সুরা ইয়াসিন পাঠ শুরু করে। জানালার ভেতর দিয়ে দেখে কলাপাতা মাথায় দিয়ে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে।একটা চাপা কণ্ঠস্বর বলে ওঠে,‘ভয় পেয়েছ?’
কণ্ঠস্বরতার বেশ পরিচিত। মাথার উপর থেকে কলাপাতা সরালে ইলার বড়ো বোন কাজলাকে চোখে পড়ে। ইয়েলের মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয় না। তাদের চারটি চোখ কিছুক্ষণের জন্য স্থির হয়ে যায়। হারিকেনের আলো আর বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় এক পলক দেখা হয় তাদের। জলজ্যান্ত মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। কাজলাকে দেখে ইয়েলের জ্ঞানশূন্য হবার অবস্থা। ইয়েল বিড়বিড় করে এক নাগাড়ে কী যেন বলে যাচ্ছে।
কাজলা ম্লান হেসে আবার বলে,‘ভয় পেয়েছ?’ ইয়েলের মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। সেএবার রাগান্বিত হয়ে বলে,‘তাড়াতাড়ি বাইরে বের হয়ে আসো।’
ভয়ে ভয়ে ইয়েল ঘর থেকে বের হয়ে আসে। ওর কাছাকাছি হয়ে দেখে আঁচলের খুঁট খুলে টাকা বের করছে। কিছু বলার আগেই ওর হাতে টাকা গুঁজেদিয়ে বলে,‘জলদিইমরান ডাক্তারকে ডেকে আনো।’
ইলার বড়ো বোনকে চিনতে পেরে ইয়েল বলে,‘অসময়ে ডাক্তার দিয়ে কী করবেন মাইজি?’
‘ইলা জ্বরে পুড়ে মরে যাচ্ছে। সেজ্বরে অস্থির হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। কিছুতেই জ্বর কমছে না।’
তার কথা শুনে রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ইয়েল। বিদ্যুৎ চমকালে দুজনার চোখে চোখআবার স্থির হয়ে যায়।
ইয়েলকে ধাক্কা দিয়ে বলে,‘জলদি দৌড়াও। আমি ওর কপালে জলপট্টি দিতে থাকি।’
‘মাইজি, চলেন ওকে একবার দেখে আসি।’
‘ডাক্তারকে আগে নিয়ে আসো। ওর আগে পথ্য দরকার।যাও। বেশি দেরি করো না’, বলে বাড়ির দিকে কাজলা হাঁটা শুরু করল।
ইয়েল কিছু না বলে একটা পাগলা ক্ষীপ্র ছুট দেয়। দ্রুতগতিতে ছুটে চলে কাজিহাটারদিকে। দমকা বাতাসের সাথে বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। ইয়েল কাঁচারাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছে। খেয়াল নেই ওর সেদিকে। কাঁচা রাস্তা পার হয়ে ধানখেতের আল দিয়ে ছোটে পাগলের মতো। মাঝে মাঝে বাতাস তাকে ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরিয়ে দিচ্ছে। আবার বাতাসকে পেছনে ফেলে সে এগিয়ে যাচ্ছে। বাতাস আর তার মাঝে চলছে দুষ্টুমির খেলা। সামনে ছোটো একটা নালা। চৈত্র-বৈশাখ মাসে শুকিয়ে যায়, বর্ষায় আবার যৌবন ফিরে পায়। নালা পার হতে হবে তাকে।কোথাও এক হাঁটু আবার কোথাও বুকপর্যন্ত পানি। নালা পার করে আবার দৌড় দেয় ইয়েল। দৌড়াতে দৌড়াতে ইমরান ডাক্তারের বাড়ির উঠোনে গিয়ে থামে। বৃষ্টিতে চারিদিকে সুনসান, নিরেট অন্ধকার। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। দরজায় টোকা দিলে ভেতর থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, ‘কে?’
ইয়েল হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,‘ডাক্তার নানা, আমি ইয়েল।’
ডাক্তার ঘরের ভেতর থেকে পুনরায় বলেন,‘কে?’
ইয়েল বলে,‘আমি, ডাক্তার নানা।’
ইয়েলের স্বর বুঝতে পেরে ডাক্তার হারিকেনটা হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে বলেন,‘এত রাতে কে এলো আবার?’
ইয়েল গলার স্বর বাড়িয়ে বলে,‘আমি ইয়েল, ডাক্তার নানা।’
ডাক্তার ভ্রু কুঁচকে বলেন,‘ওহ্ ইয়েল? এ বৃষ্টির মধ্যে কোথা থেকে এলিরে?’
‘আগে দরজা খুলুন।’
‘একটু দাঁড়া, খুলছি।’
একটু পরে ডাক্তার দরজা খুলে দিলেন। এক পলক মাথা থেকে পা পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে নিলেন ইয়েলের। বৃষ্টিতে ভিজে জড়োসড়ো হয়ে আছে সে।
ডাক্তার বলেন,‘আয়, ভেতরে আয়।’
‘না ডাক্তার নানা, ভেতরে যাবো না।আপনি আমার সাথেইলাদের বাড়িতে চলেন।’
‘কেন?ওদের আবার কীহয়েছে?’
‘ইলার ভীষণ জ্বর, নানাজান।’
ডাক্তার বলেন,‘কিন্তুবৃষ্টিবাদলের দিন, যাই কী করে বল তো? বেশ রাত হয়ে গেছে রে।’
‘কোনো অজুহাত শুনব না নানাজান। আমার সাথে আপনাকে যেতেই হবে।’
‘তোর নানি জেগে আছে। একটু পরে যাই।’
‘দেরি করা যাবে না। নানিজানকে আমি ম্যানেজ করছি’, বলে ইয়েল অন্দরমহলে ঢুকে পড়ে।
‘কই গো নানিজান’ বলতেবলতে ঘরে প্রবেশ করে সে। আধশোওয়া থেকে উঠে মাথায় কাপড় টেনে নিয়ে বেগম ডাক্তার বলেন,‘কী ব্যাপার ইয়েল, আজ ভারি নানির কথা মনে পড়ল? নিশ্চয় কোনো মতলব আছে?’
‘অনেকদিন দেখাসাক্ষাৎ হয় না। তাই ভাবলাম দেখা করে যাই। ডাক্তার নানাকে ইলাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি।’
ইলার কথা শুনেই মুচকি হাসি দিয়ে তিনি বলেন,‘ওর আবার কী হয়েছে?’
‘ওর ভীষণ জ্বর নানিজান।’
‘ওহ্! কয়েকদিন আগেই না তোমাদের দেখলাম পুকুরঘাটে ঝগড়া করতে। আর যা-ই বলিস ভাই, সে কিন্তু দেখতে অনেক সুন্দর হয়েছে। তোর সাথে বেশ মানাবে।’
নানির কথা শুনে মাথাটা নিচু করে ইয়েল অন্যদিকে ঘুরে যায়।
লজ্জা কীসের? তোকে সবাই বেশ পছন্দ করে।’
‘নানিজান, ওসব কথা থাক না এখন। আরেকদিন এসে গল্প করে যাবো।’
‘দাঁড়া’,বলে তিনি চলে গেলেন ঘরের ভেতরে। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে বলেন,‘এটা ওকে দিস। জ্বরের মুখে খেলে ভালো লাগবে। আহা রে মা-মরা মেয়ে!তুই ছাড়া কে আছে বল ওর?’
‘ডাক্তার নানাকে নিয়ে যাই তাহলে?’
‘নিয়ে যা। কিন্তু অন্ধকারে তাকে একা ছেড়ে দিস না।’
‘নিয়ে যাচ্ছি যখন আবার আপনার জিনিস আপনাকে দিয়ে যাবো। চিন্তা করবেন না নানিজান।’
ইয়েল ভেতর থেকে বের হয়ে এসে বলে,‘নানাজান চলুল, নানিজানের পারমিশন নিয়েছি। এবার দ্রুত চলুন।’
‘তোর সাথে পারা যায় না রে ইয়েল! কোনো নিস্তার নাই। তুই যখন এত করে বলছিস চল যাই।’
এমন সময়ে ভেতরের ঘর থেকে বেগম ডাক্তার বের হয়ে এসে বলেন, ‘বৃষ্টির ভেতরে কোথায় যাচ্ছ?’
‘ইয়েলের সাথে ইলাদের বাড়ি।’
‘একা ফিরতে পারবে তো?’
ইয়েল বলে, ‘নানিজান, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি নিয়ে যাচ্ছি, আমি আবার দিয়ে যাবো।’
‘বেশি দেরি কোরো না।’
‘দেরি হবে না। যাবো আর আসব।’
‘দাঁড়াও, টর্চলাইট নিয়ে যাও।’
একথা বলে বেগম ডাক্তার ঘর থেকে টর্চ লাইট নিয়ে এসে ডাক্তারের হাতে দিলেন।
উঠোন পেরিয়ে দুজনে কাঁচা রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে থাকে।
বৃষ্টি কিছুটা থেমে গেছে। কিন্তু তার রেশ এখনও রয়ে গেছে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। কোথাও পিনপতনের শব্দ নেই। গল্প করতে-করতেইলাদের বাড়িতে পৌঁছে যায় তারা।
দরজায় টোকা দিতেই ইলার দাদি এসে দরজা খুলে দেন। ডাক্তারকে নিয়ে ইয়েলসোজা চলে যায়ইলার শোয়ার ঘরে। গিয়ে দেখে ইলা বিছানায় শুয়ে আছে। ডাক্তার ব্যাগটা রেখে বসলেন ওর মাথার দিকে। ইয়েল দাঁড়িয়ে থাকল।ইলার দাদি সরে গিয়ে তসবি নিয়ে বসলেন অন্য খাটের উপর।
‘দেখি নানুভাই দেখি’ বলেডাক্তারথার্মোমিটার ওর জিভের তলে রেখে দিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পরে বলেন,‘এই তো হয়ে গেছে। আরেকটু ব্যস।’
ইলার মুখ থেকে থার্মোমিটার বের করে দেখতে লাগলেন তিনি। কিছুক্ষণ দেখার পরে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন,‘তেমন কিছু হয়নি। দুই-তিন দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যাবে।যখন ঘাম দিয়ে জ্বরটা ছেড়ে যাবে, গামছা দিয়ে মুছে দিলেই হবে। ওর হাতে কয়েকটা ঔষধ দিয়ে দেবো। চিন্তার কোনো কিছু নেই। ছোটো মাছের ঝোল আরমুরগির সুপ দিয়ে ভাত খেতে হবে।’
তারপর ডাক্তার ইয়েলকে বলেন,‘আমার সাথে চল।ঔষধগুলো নিয়ে আসবি।’
‘ব্যাগটা আমাকে দেন।’
‘এই নে ধর।’
‘আসুন।’
দুজনে রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে। কেউ কোনো কথা বলে না। ইয়েল একেবারে অন্যমনস্ক হয়ে আছে। ডুবে আছে চিন্তার জগতে।ডাক্তার এর মধ্যেই কয়েকবার ডেকেছেন, তবু সে শুনতে পায়নি। ইয়েলের ভেতরে ঝড় বেয়ে চলছে। সে মনে মনে ভাবে, ইলা এত অসুস্থ আর আমি জানতে পারলাম না? কিছুই বুঝতে পারলাম না? এমন তো হওয়ার কথা না। কেন এমন হলো? আমার ইন্দ্রিয় শক্তি বধির হয়ে গেছে নাকি?
ডাক্তার জোরে ডাকলে চিন্তার জগৎ থেকে ফিরে আসে ইয়েল। সে যেখানে পা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ডাক্তার সেখানে পা দিয়েদিয়ে চলছেন। তিনি ইয়েলের নাম ধরে আবার ডাকেন।
শুনতে পেয়ে বলে,‘জি ডাক্তার নানা।’
‘কী রে, এত কীনিয়ে চিন্তা করিস?’
‘তেমন কিছু না নানাজান।’
‘কিছু হয়নি বললেই হলো? কিছু একটা তো হয়েছে। আমার মাথার চুলগুলো এমনিতে পেকে জট ধরেনি,বুঝলি?’
‘একটু কলপ লাগিয়ে নিতে পারেন।’
‘রাখ তোর কলপ।কী নিয়ে এত চিন্তা করিস সেইটা বল।’
‘তেমন কিছু চিন্তা করছি না নানাজান।’
‘সারাক্ষণ কী যেন ভাবছিস।’
‘নানা, ভাবার কী আছে?’
‘দেখছি মনমরা হয়ে আছিস। সে কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি, তোর কোনো উত্তর নেই। তোকে মনমরা দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে,বুঝলি?’
‘তেমন কিছু না ডাক্তার নানা।’
‘কিছু একটা হয়েছে রে ইয়েল। আমাকে বলে মনটা একটু হালকা কর।’
ইয়েল আর কোনো কথা বলে না। সে আবার চিন্তার সাগরে অজান্তে সাঁতার কেটে চলে একাএকা।
ইমরান ডাক্তার কথা বলতেই থাকেন, ‘ভালো করে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হ। গ্রাম থেকে শহরে যাবি। শহর থেকে সমগ্র বিশ্ব দেখবি। এখনকার দেখা আর তখনকার দেখা কত তফাত বুঝবি তখন। এ দেখা শেষ দেখা নয় রে ইয়েল। সামনে একটা বড়ো জীবন পড়ে আছে। ফাউন্ডেশন ভালো না হলে সবকিছু দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ভালো কিছু হবে না। শুধু আফসোস আর আফসোস করবি। কখনও দুই নৌকায় পা দিতে যাবি না। ওহ্,একটা কথা বলতে ভুলে গেছি রে তোকে।’
‘কী কথা ডাক্তার নানা?’
‘আমাদের মাদ্রাসার মাঠে আগামী শুক্রবার ইসলামি মাহফিল হবে। তুই কি সেটা জানিস?’
‘হ্যাঁ শুনেছি। স্কুলে হেডস্যার, রহিম স্যার ও কালাম স্যার ডেকে বলেছেন।’
‘শুনেছি মানে কী রে? কাজে নেমে পড়। তুই ছাড়া আমাদের গতি আছে?’
ইয়েল আবার চিন্তার জগতে চলে গেছে। এদিকে ডাক্তার একা কথা বলেই চলেছেন। সেদিকে কোনো খেয়াল নেই তার।ডাক্তার আবারও একটু জোরে ডেকে বলেন,‘কী রে, কী হয়েছে! আমি কতকিছু বললাম এতক্ষণ, কোনোকিছু বলছিস না যে?’
‘তেমন কিছু না নানা।’
‘শোন। আমার ছেলেমেয়ে সব বড়ো হয়ে গেছে। এত ইনকামপাতি করে কী হবে বল। আমরা এবার চিন্তা করেছি গতবারের চেয়ে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ করে অনুষ্ঠান করব। তুই না থাকলেসব বরবাদ হয়ে যাবে। তুই না করিস না ইয়েল।’
‘ঠিক আছে ডাক্তার নানা। সব ভালোভাবেই হবে, ও নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’
‘আগামীকাল থেকে তোর দলকে কাজে লাগিয়ে দে।’
‘ঠিক আছে। আগামীকাল থেকেই কাজ শুরু করে দেবো আমরা।’ (চলবে)
দূর নক্ষত্র- পর্ব-০১
ইসমাইল হোসেন ইসমী

116
পূর্ববর্তী খবর
