ইসলাম ও কুসংস্কার পর্ব-৩

নবী সালিহ (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের অশুভ বলা

by sondeshbd.com
111 views

মানবজাতির আদি ইতিহাস থেকে দেখা যায়—যখনই মানুষ আল্লাহর নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই সমাজে কুসংস্কার, অজ্ঞতা, মূর্তিপূজা, জ্যোতিষ, অশুভ ধারণা, দেবতার সন্তুষ্টির নামে অমানবিক রীতি এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন বিশ্বাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

কুসংস্কার হলো এমন বিশ্বাস, ধারণা বা আচরণ—যার কোনো যুক্তি, প্রমাণ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; তবুও সমাজে তা প্রচলিত। এক কথায়, কুসংস্কার হলো ভিত্তিহীন বিশ্বাস, যার পেছনে না থাকে যুক্তি, না থাকে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। মানুষের মনগড়া ধারণা, কাল্পনিক চিন্তাভাবনা কিংবা লোকমুখে প্রচলিত গল্প—এসব থেকেই সাধারণত এমন বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব রীতি-নীতি বংশপরম্পরায় চলে আসে, আর সমাজের মানুষ প্রশ্ন না করেই তা অনুসরণ করতে থাকে।
পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন নবীর যুগে সংঘটিত এসব কুসংস্কারকে তুলে ধরে মানুষকে সত্য ও যুক্তির পথে আহ্বান জানিয়েছে। পূর্ববর্তী নবীগণ সালাম তাদের সমাজে এ অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। নীচে নবীভেদে সেসব কুসংস্কারের বিবরণ দেওয়া হলো।

৩. হযরত সালিহ (আ.) সামূদ জাতির কুসংস্কার:
নবী সালিহ (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের অশুভ বলা।
আল্লাহর অলৌকিক উষ্ট্রীকে অযৌক্তিক বলে হত্যা করা।
দুর্যোগের কারণ নবীকে মনে করা।
মূর্তির পূজায় সমাজের শান্তি বহাল থাকবে।
কোরআন শরীফে আল্লাহ তাআলার এরশাদ করেন: তারা বলল, “তোমাকে এবং তোমার সঙ্গীদের আমরা অশুভ মনে করি।” সূরা নামল: আয়াত: ৪৭
তাফসীর:
ইবন আব্বাস (রা.) বলেন:
তারা বলত, “তোমরা আমাদের মাঝে আসার পর নানা বিপদ নেমে এসেছে।”
এটাই ছিল তাদের কুসংস্কারের মূলে থাকা অন্ধবিশ্বাস।

বর্তমান সমাজে লক্ষ্য করলে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই যে বহু কুসংস্কার এখনো আমাদের মাঝে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে আছে। যুগের পর যুগ ধরে যে ভুল ধারাবাহিকতা চলে আসছে, তা আজও বিভিন্ন রূপে প্রতিফলিত হয়।

অতএব, একজন মুসলমানের উচিত হলো—আল্লাহ যখনই কোনো পরীক্ষা নেন, তখন নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা, এবং সকল প্রকার কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদেরকে দোয়া ও সাহায্য প্রার্থনার সঠিক পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। (চলবে)
লেখক:আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী
সিনিয়র আরবি শিক্ষক, এভাররোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পল্লবী,ঢাকা।
অনার্স (কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ), ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি,মদিনা।

আরো পড়ুন