চন্দ্রদাহ পর্ব- ৭

জিল্লু র রহমান শুভ্র

by sondeshbd.com
318 views

সকালের ঘুম ভেঙে গেলে সাবিত্রী বিছানা থেকে উঠে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে রিকশা ধরতে
দরজার দিকে এগিয়ে গেল। হাসপাতালের দূরত্ব খুব বেশি দূরে ছিল না, তবে সে এতটাই
অস্থির ছিল সামান্য দূরত্বই তার কাছে হাজার মাইল মনে হচ্ছিল। সকালের কচি রোদের
ডানায় ভেসে আসা চিলের ঘ্রাণ কিংবা রাস্তার দু’পাশের বন্ধ দোকানগুলোর রং-বেরঙের
সাইনবোর্ড কোনোটাই তার মনে প্রভাব বিস্তার করতে পারছিল না। কারণ, তার মনে শুধু
কাজ করছিল রাসেলকে খুঁজে পাওয়ার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা। রিকশা চালককে তাড়া
করল সে, “তাড়াতাড়ি প্লিজ!” রিকশাচালক তার মনটা বুঝে, যদিও রাস্তায় ঝঞ্ঝাট ছিল,
দ্রুত প্যাডেল চালিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেল হাসপাতালের সামনে। সেখানে
পৌঁছার পর পরই তার মনটা ধড়ফড় করে উঠল যখন সে একটি শবগাড়িকে তার সামনে
দিয়ে চলে যেতে দেখল।
রিকশা থেকে নামার পরে ফ্যাকাশে মুখে হাসপাতালে ঢুকল সে।
তারপর যথাক্রমে জরুরি ওয়ার্ড, সাধারণ ওয়ার্ড এবং কেবিন ঘুরে ঘুরে দেখল,
কিন্তু রাসেলকে কোথাও পেল না। হতাশার ভাঁজ তার কপালে যেমন স্পষ্ট হলো তেমনি
অস্বাভাবিকতা বিরাশি সিক্কা ওজনের ঘুষি মেরে তাকে টালমাটাল করল। পরচুলা পরা
এক চিকিৎসক-কে দেখামাত্র, তড়বড় করে জিজ্ঞাসা করল সে, “আহত ছাত্ররা কোথায়,
বলতে পারেন?”
হয়ত তার প্রশ্ন করার ধরনে বিনয় ছিল না। হতে পারে না? সে যেভাবে বলতে
চেয়েছিল, ঠিক সেভাবে বলা হয়নি। গলাটা হঠাৎ চড়া হয়েছিল। তবে এর ভালো-মন্দ
নির্ভর করে শ্রোতার মর্জির উপর। ডাক্তার ছিলেন পুরোদস্তুর সংকীর্ণ মনের। ক্ষুব্ধ হলেন
তিনি এবং কাঁধ ঝাঁকিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর সরাসরি এড়িয়ে গেলেন। কিছুক্ষণের জন্য
ডাক্তারের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণে বিব্রত বোধ করল সে। মনে মনে ভাবল, কী ভুল ছিল তার?
ডাক্তারকে পাত্তা না দেওয়াটাই তার জন্য সম্মানের, তাই সে সেখান থেকে সরে এসে
বাঁধা শরীর এবং সুশ্রী চেহারার একজন যুবকের সাথে দেখা করল, যে-কিনাQUERY DESK-এ বসে মাথা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিল।
“আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে পারি?” সাবিত্রী’র কণ্ঠে এবার বিনয় ধরা দিল।
“অবশ্যই,” বলল সে, মাথা উঁচু করে, “উত্তর দেয়ার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে
বেতন নিচ্ছি।”
“সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ,” সাবিত্রী বলল। বাঙালি
স্বভাবহেতু পরক্ষণে একটু খোঁচা দিয়ে, “সত্যিই আপনি সরকারের একজন নিখুঁত
কর্মচারী।”
“ধন্যবাদ,” যুবকটি বলল। একটু পরে আগ্রহ নিয়ে শুধাল, “এখানে আসবার হেতু?”
“রাসেল নামে একজনকে খুঁজছি। পঁচিশে মার্চের রাতে সে নিজেই এখানে এসেছিল
কিংবা কেউ তাকে নিয়ে এসেছিল,” সাবিত্রী বলল।
যুবকটি তার রেজিস্টার বইয়ে সাবধানতার সাথে নামটির খোঁজ করল। কিছুক্ষণ
বাদে, একটি নাম চিহ্নিত করে, হঠাৎ চিৎকার করল সে, “হ্যাঁ, পেয়েছি!” সঙ্গে সঙ্গে
সাবিত্রী’র মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তবে সেই উজ্জ্বল মুখ দুশ্চিন্তার কালো মেঘে ঢেকে যেতে
এতটুকু সময় নিল না, যুবকটি যখন বলল, “তবে সে ডেড!”
অচেনা ব্যথায় তার বুক মোচড় দিয়ে উঠল। তার হৃদয়পাখি হাহাকারের বিরানভূমির
দিকে উড়ে গেল। ফলে কান্নায় ভেঙে পড়ল সে।
“কাঁদবেন না! এটি আপনার শ্বশুরবাড়ি নয়, কথায় কথায় কাঁদবেন। কাঁদলে এখান
থেকে চলে যেতে বলব। বরং সেখানে চলুন যেখানে তার মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে,”
বলল সে, ডেস্ক থেকে বাইরে বেরোতে বেরোতে।
তার অনুরোধে সাবিত্রী কান্না থামাল এবং ব্যাকপ্যাক থেকে ফুল মুদ্রণ করা রুমাল
বের করে চোখ মুছল—তারপর তাকে অনুসরণ করল। শিগগিরই তারা একটি লালচে
বাদামি রঙের পুরাতন বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছুল। এর প্লাস্টার একটু একটু করে খসে
পড়ছিল এবং ভেতর ছিল প্রায় অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে। সাবিত্রী হাঁটু না ভেঙে পা বাড়াল
এবং টান টান উত্তেজনা নিয়ে ভেতরে ঢুকল। ঢোকার পরে, তার অনুভূতি হলো সাদা
কাফনে ঢাকা সারি সারি লাশের উদ্যানের ভেতর প্রবেশ করেছে সে।
পচন থেকে মৃতদেহকে সতেজ রাখার জন্য আতর, গোলাপজল এবং চায়ের
অদ্ভুত গন্ধ তার নাকে এসে ঢুকছিল। রুমাল দিয়ে তার নাক ঢাকল সে। যত ভেতরে
ঢুকছিল সে ততই যেন ভয়ের গোলকধাঁধায় প্রবেশ করছিল। তার শরীরের লোম শজারুর
কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। কম্পিত বুকে, লাশের মুখগুলো একের পর এক দেখল।
লাশগুলোর মধ্যে রাসেলকে না পেয়ে তার মৃতপ্রায় আত্মায় আশার আলো একটু হলেও
ঝিলিক দিল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, বলল সে, “উফ! বাঁচা গেল! মন বলছে রাসেল
এখনো বেঁচে আছে!”
মরচুয়ারি থেকে বেরিয়ে এসে একা একা হাঁটতে লাগল সে। ক্ষীণ হলেও আশা তার
মনে উঁকি দিচ্ছিল। হঠাৎ তার নজর গেল বিদ্যুতের খুঁটির উপর। সেখানে দু’টো চড়ুই
পাখিকে বিশ্রম্ভালাপ করতে দেখে রাসেলের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হলো তার। কিন্তু
কী আর করা!
অন্যমনস্ক হয়ে পড়লেও আগের মতোই হাঁটছিল সে। যখন সদর দরজা পেরোচ্ছিল,
ঠিক তখুনি একজনকে পেছন থেকে আচমকা দেখতে পেল, যে-কিনা প্লাস্টার করা পায়ে
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। ভিড়ের মধ্যে ঠাহর করতে না পারলেও যুবকটি তার চেনাচেনা
মনে হচ্ছিল। চুম্বকের টানে ছুটে যাওয়ার মতো ছুটে গেল তার কাছে। এতদিন ধরে
যাকে খুঁজছিল তাকে হঠাৎ পেলে কেমন লাগে? বিস্মিত হয়ে অপলক তাকিয়ে থাকা ছাড়া
করার কিছু থাকে না।
সম্বিৎ ফিরে পেলে সে চিৎকার দিল, ”রাসেল! বেঁচে আছ!”
তার চিৎকারে রাসেল থমকে দাঁড়াল। পেছন ফিরে তাকাল। সাবিত্রীকে দেখে
সে-ও বিস্মিত। এতটাই বিস্মিত মুখ থেকে একটি শব্দও বেরোচ্ছিল না। খাওয়ার জন্য
তার হাতে একটি শুকনো রুটি ছিল, হতবাক হওয়ার ফলে, তার হাত থেকে রুটিটি
কয়েকজন ভবঘুরের সামনে কখন যে পড়ে গেল টেরই পেল না। কাছাকাছি একটি সাদা
দাগওয়ালা কালো কুকুর হাঁফাচ্ছিল, রুটিটি দেখামাত্র কাউকে ধন্যবাদ না জানিয়ে মুখে
নিয়েই দৌড়।
বিস্ময়ের পেন্ডুলাম একবার নিজের দিকে একবার সাবিত্রী’র দিকে দুলছিল। এটি
যখন সমান দূরত্ব বজায় রেখে দু’জনের মাঝখানে থামল, তারা তখন ছুটে গিয়ে একে
অপরকে দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে ধরল। একে অপরকে জড়িয়ে থাকল কতক্ষণ! বিদ্যুতের মতো
অদ্ভুত শিহরণ তাদের ভেতর খেলে গেল। এরকম শিহরণ এর আগে কখনো অনুভূত
হয়নি। এটি ছিল একটি নতুন অভিজ্ঞতার মতো। অনুভূতির নতুন বাচ্চার জন্মের মতো।
কেউ এর সঠিক নাম বলতে পারবে না বা ব্যাখ্যা করতে পারবে না। এর ব্যাখ্যা দিতে
গেলে দার্শনিক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানী সকলকেই ব্যর্থতার স্বাদ নিতে হবে।
এই অলৌকিক শিহরণের মূলে কী, কেউ তা জানে না। তবে অনিবার্য যৌবনের পরে,
প্রতিটি পুরুষ এবং প্রতিটি নারী, যদি তারা চান, তবে এই স্বর্গীয় শিহরণের স্বাদ নিতে
পারেন।
“ইয়েপ্পি!” সাবিত্রী চেঁচিয়ে উঠল। আবেগকে আরো উসকে দিয়ে, “তোমাকে
পেয়েছি!”
“আমিও!” রাসেলও চিৎকার করে উঠল, “ভাবতে পারিনি তুমি আমাকে খুঁজবে।”
“কেন খুঁজব না?” সাবিত্রী বলল, তার চোখের জল মুছতে মুছতে। পরক্ষণে,
নিজেকে ঠাউরে নিয়ে, জিজ্ঞাসা করল, “কেমন আছ?”
“ভালো আছি, তবে আমার গোড়ালি ভেঙে গেছে,” বলল রাসেল।
সাবিত্রী, রাসেলের আবেষ্টন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে নিয়ে, ধেইধেই করে
নাচার মতো খুশিতে বলল, “তোমাকে ফিরে পেয়েছি এই যথেষ্ট!” একটু পরেই জিজ্ঞাসা
করল সে, “কীভাবে ভাঙল?”
“বলছি, চলো কোথাও, বসি,” বলল রাসেল, অবসন্নভাবে।
রাসেলের প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিল। সাধারণ মানের একটা হোটেল থেকে মসলা আর পোড়া
মাছের সুস্বাদু ঘ্রাণ ভেসে আসছিল। সাবিত্রীকে নিয়ে সেই হোটেলে ঢুকল সে এবং ভাতের
অর্ডার দিল। ভাত খেতে খেতে, সেই রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার বাকরুদ্ধ
হয়ে পড়ছিল সে। চমকে উঠছিল বারবার। খাবার মুখে দিতে পারছিল না। তার ডান
হাত যেন ঠিকমতো কাজ করছিল না। কারণ, সেই কালো রাত অপহরণ করেছিল তার
ঘুম, গুড়িয়ে দিয়েছিল তার আশা ও স্বপ্ন, করাত চালিয়েছিল তার ভবিষ্যতের উপর এবং
কেড়ে নিয়েছিল তার মূল্যবান সম্পদ মুখের হাসি।
সাবিত্রী সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “আগে খেয়ে নাও। পরে শুনব।”
পরে চা খেতে খেতে, রাসেল বলল, “আমার স্মরণ মতে, আমি এবং আমার
রুমমেট ঘুমা”িছলাম। হঠাৎ গুলি আর ভয়ঙ্কর চিৎকারের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।
গুলি, গুলি আর গুলি! বৃষ্টির মতন! রাতের অন্ধকার ও অন্ধকারের বুক চিরে প্রতিটি গুলি
আসছিল মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে! কারা গুলি করছিল এবং গুলি কোথা থেকে আসছিল,
বিষয়টা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। যা ঘটছিল তা যুদ্ধকেন্দ্রিক হলিউড চলচ্চিত্রের মতো।
পরিবেশ তীব্রভাবে কাঁপছিল—যেন বজ্রপাত কিংবা উল্কাবৃষ্টি হচ্ছিল। তীব্র শিরশিরানি
মেরুদণ্ড বেয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল। আমরা তখন একেবারে হতবুদ্ধ। একে
অপরের দিকে দুর্দশাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করছিলাম এবং ভীষণভাবে কাঁপছিলাম!
শলাপরামর্শ করে আমরা ঘর ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াই। হতাশভাবে লক্ষ করি, সামনে
এবং রাস্তায় পলাতক ছাত্ররা ছোটাছুটি করছিল। কিছু ছাত্র দিশে না পেয়ে পুকুরে ঝাঁপিয়ে
পড়ছিল। রুমমেট আবার রুমে ফিরে গেলেও আমি আর ফিরিনি। রিস্ক নিয়ে উপর থেকে
লাফিয়ে পড়ি। তারপর আমার সঙ্গে কী হয়েছিল বলতে পারব না। জ্ঞান ফিরে এলে দেখি
আমি হাসপাতালের বেডে।” কথা শেষ করে প্রায় ভেঙে পড়ল সে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার
বলল, “রুমমেট কোথায় আছে কি”ছু বলতে পারব না।”
“আমি পারব,” সাবিত্রী বলল, আকস্মিকভাবে।
“কোথায় আছে?” রাসেল জিজ্ঞাসা করল।
“যেখানে আমরা কেউ যেতে পারব না,”
“মারা গেছে?”
“তার ডেডবডি স্বচক্ষে দেখেছি।”
হঠাৎ এক অলক্ষুণে জাদুকর ভোজবাজির মতো তাকে অদৃশ্য করে দূরে এবং
জনমানবশূন্য স্থানে নিয়ে গেল। সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য সে যথাসাধ্য চেষ্টা
করছিল, কিন্তু পথ হারাচ্ছিল বারবার। অবশেষে, যখন নিজেকে ফিরে পেল, বিড়বিড়
করে বলল সে, “আমি কোথায়?”
“আমি যা ভেবেছিলাম, তাই। তুমি স্বাভাবিক নও,” সাবিত্রী বলল।
রাসেলের সাথে কেউ ছিল না, থাকবার কথাও নয়। জেনেশুনে, তাকে একা ফেলে
যেতে পারে না সে। এছাড়া, হল নিরাপদ ছিল না। বেঁচে যাওয়া ছাত্রদের সিংহভাগ হল
ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। মুষ্টিমেয় কয়েকজন, যাদের বুকের পাটা অনেক বড়,
হয়ত তারাই রয়ে গিয়েছিল।
রাসেলের ভালোর জন্য ঝুঁকি নিতে সাহস করল না সে।
“চলো আমার সাথে!” সাবিত্রী বলল।
“কোথায়?” রাসেল অসহায় চোখে তাকাল।
“আমি যেখানে যাচ্ছি,” সাবিত্রী রহস্য করে জবাব দিল। পরক্ষণে, জিজ্ঞেস করল,
“হাঁটতে পারবে?”
“হাঁটতে পারি; কারণ, মূল ব্যথাটা সরে গেছে,” রাসেল বলল, “তবে পুরোপুরি
নিরাময় হয়নি। নিরাময় হতে কমপক্ষে এক বা দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।”
তারা একটি cattle-grid পার হলো এবং সেখান থেকে একটি ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া
করল। এভাবেই সাবিত্রী’র প্রস্তর যুগের সমান অপেক্ষার ও প্রচেষ্টার অবসান হলো।
ঘোড়ার গাড়ি চলছিল কখনো ক্ষিপ্রতায় কখনো ধীরগতিতে। লক্ষ্য ভাস্কো-দা-গামা
রোড। গাড়ি যখন ধীরগতিতে, নিজের এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে, সাবিত্রী হঠাৎ
বলল, “তুমি ছিলে না বলে বেদনা এসে নীরবতার ভাষায় কথা বলত, যেভাবে চোখের
পানে তাকিয়ে শান্ত গভীর নীলাকাশ কথা বলে। এই ভাষা বোঝা অনেক কঠিন অনেক
যন্ত্রণার।” দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল সে।
“এখন?” রাসেলের সপ্রতিভ চাহনি।
“নীরবতা ভেঙে এখন মুখর। আমি এইটাই চেয়েছিলাম,” বলল সে, সামনের দিকে
তাকিয়ে। (চলবে)

আরো পড়ুন