নির্ধারিত মঞ্চে শুয়ে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিথর দেহ-নীরব, অথচ ইতিহাসের ভারে উচ্চকিত। সেই একই মঞ্চে উঠে তারেক রহমান জানাজার আগে নিয়মতান্ত্রিক, সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করলেন, কোনো উত্তেজনা নয়, কোনো দীর্ঘতা নয়; ছিল শুধু দায়িত্ববোধের ভারী নীরবতা। রূপকের ভাষায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন মায়ের দৃষ্টির শেষ আশীর্বাদ এসে পড়ল সন্তানের কাঁধে।
জীবনের মঞ্চ থেকে বিদায়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী যেন আরেকবার দেশটাকে দেখলেন, মানুষগুলোকে দেখলেন-আর তারপর নিঃশব্দে দায়িত্ব অর্পণ করলেন তারেক রহমানের হাতে। বললেন “দেশটাকে দেখে রেখো, আগলে রেখো, এদেশের মানুষ গুলোকে আপন ভেবে, তাদের পাশে থেকো, তাদেরকে ভালোবেসো, এবং সর্বোপরি সার্বোভৌমত্ব, গনতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থেকো।”
কোনো মাইক, কোনো ঘোষণা, কোনো স্লোগান নয়-একই মঞ্চে নিঃশব্দে সম্পন্ন হলো দায়িত্বের উত্তরাধিকার।
কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়-একটি ইতিহাসবাহী মঞ্চেই উত্তরাধিকার বদলের সেই অনুচ্চারিত, কিন্তু গভীরতম সত্যটি সম্পন্ন হলো।
বাতাসে ভেসে রইল কান্না আর প্রতিজ্ঞার সংমিশ্রণ, আর ইতিহাস লিখে নিল সেই ক্ষণ-যেদিন শোকের মঞ্চই হয়ে উঠল ভবিষ্যতের দিশারি। সেই মুহূর্তে রাজনীতি থেমে গেল, কথা থেমে গেল-থেকে গেল শুধু দায়িত্ব, স্মৃতি আর ভবিষ্যতের কঠিন এবং দৃড়চিত্তে পথচলার অনুপ্রেরণা!

