স্টোরি অফ ব্রথেলজিক পর্ব -০৭

সরদার মেহেদী হাসান

by sondeshbd.com
2K views

মানুষের ভাবনার পরিধিটা অসীম। ভাবনার রং কখনওন তেঁতো কখনওবা মিষ্টি আকাশের রংধনুর মতো রঙ্গিন। অনেকটা কার্ভ বা বাঁকানো। আমরা বাঁকানো রেখার মতো বাঁকিয়ে চলতে কতই না পছন্দ করি।

আপনি জানেন ধূমপান বিষপান, ধূমপান ক্ষতিকারক, তারপরও আপনি অবাধে সিগারেট পান করেই চলেছেন। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।

আপনি জানেন,”এইডস” একটি মরণ ব্যাধি, তারপরও মানুষ পতিতাপল্লীতে যাচ্ছে অবাধে প্রটেকশন ছাড়াই বসার জন্য, যদিও দেশের প্রতিটি পতিতাপল্লীতে কঠোরভাবে একটি জিনিস মেনে চলে বা চলতে হয় তা হচ্ছে, বসার সময় প্রটেকশন ব্যবহার করতে হবে। এই কাজটি করবার জন্য বেশ কয়েকটি এনজিও কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

একদিন এক যৌন কর্মীকে প্রশ্ন করলাম:
তুমি দিনে কতজন খদ্দের নিতে পারো?
প্রচুর কষ্ট হয়, তারপরও পেটের দায়ে দিনে অন্তত ১০/১২জন নিতে পারি।
আজকে কতজন নিয়েছো?
সে তার ঘরের কোনে রাখা একটি ছোট্ট কৌটা দেখিয়ে বলল গুনে দেখ।
তার উত্তর শুনে আমি অবাক! বল কি!?

মেয়েটি বললো: আমি যতগুলো খদ্দের নিয়েছি, ততগুলো কনডম এই কৌটাতে রাখা আছে।
এই নোংরা জিনিসগুলো কৌটাতে রাখার কি দরকার?
তার উত্তর, দিন শেষে এনজিওর আপা’রা আসে এবং গুনে নিয়ে চলে যায়।
তাতে তোমার লাভ কি?
আমার লাভ, যতগুলো কনডম তারা নিয়ে যায় ততগুলো নতুন কনডম ফ্রি আমাদেরকে দিয়ে যায়, সুন্দর সুন্দর জিনিস দেয়, আমরা এইডস থেকে আমাদের
রক্ষা করতে পারছি, এইগুলো যত্রতত্র ফেলে দিলে আমাদের ছোট শিশুরা খেলার ছলে মুখে তুলে নিতে পারে কিন্তু এর ফলে শিশুগুলো নিরাপদে থাকবে।
আচ্ছা! তোমরা কনডমকে কি বল?
মুজা বলি! কনডম কথাটা বলতে কিংবা শুনতে লজ্জা লাগে, তাই মুজা বলি

মুজা কেন? অন্য শব্দও তো ব্যবহার করা যেতো…
তা জানিনা, সবাই বলে, আমিও বলি।
আমি বললাম, কেউ যদি প্রটেকশন ব্যবহার করতে না চায় তাহলে কি কর? মেয়েটি হাসতে হাসতে বলে, লাত্থি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেই।
আমি বলি: কেউ যদি টাকার লোভ দেখায়?
মেয়েটি: তাতেও আমি নেইনা, তবে কাউকে কাউকে নেই, তারা যদি না বোঝে আমার কি! আঁদা খাবে-ঝাঁলে বুঝবে!!
অচ্ছা! আমি যদি তোমার সাথে প্রটেকশন ছাড়া বসতে চাই, তুমি কি বসতে দিবে?
মেয়েটি: তুমি…তো খদ্দের নয়, তারপরও বসতে দিব না!
বলো কি? আমাকেও বসতে দিবে না?

মেয়েটি মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল: কি…মুজা ছাড়াই আমার সঙ্গে বইতে ইচ্ছা করছে?
ধরে নাও করছে, এখন কি করবা?
মেয়েটি স্বভাবসুলভ ভাবে: তোমাকে নিয়ে গিয়ে, ব্লাড টেস্ট করে নিয়ে আসবো।
বল কি? ব্লাড টেস্ট করবা কোথায়?
কেন? আমাদের এখানে স্বাস্থ্য ক্যাম্প আছে, সেখানে ব্লাড টেস্ট করা যায়।
আমি অবাক হয়ে বললাম, তাই নাকি?
হ্যাঁ।

তোমাদের বাবু’দের কি ব্লাড টেস্ট করা থাকে?
হ্যাঁ, তারা…তো স্বামীর মতো, তারা…তো প্রটেকশন নেয় না, তাই আগেই ব্লাড টেস্ট করা থাকে।
তোমাদের এখানে এইডস এর রোগী আছে, ক’জন?
জানি না।
জানো না? নাকি বলবা না?
ক্যামনে কই, জানিনা…তো!
আচ্ছা ঠিক আছে।

এভাবেই মেয়েটির সাথে কথা হচ্ছিল আমার। নিষিদ্ধপল্লীতে অনেক নিয়মাবলী আছে। আপনার/ আমার বোন কিংবা সন্তান একটু সাবালিকা হতেই যদি বলে: বাবা, নাও…আমার জীবনের প্রথম দেহ ব্যবসার টাকা তোমার হাতে তুলে দিলাম। তখন আমাদের এ সভ্য জগতের বাবা’রা কি বলবেন?

আর সেখানে…ত মা তার সন্তানকে বড় করে তুলছে…কবে মেয়ে তার শরীর বিক্রির টাকা তার হাতে তুলে দিবে…এটাই মনে হচ্ছে আমাদের থেকে তাদের মূল্যবোধের পার্থক্য। এভাবেই আমরা নিজেরাই বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কালে, বিভিন্ন সভ্যতার আড়ালে ব্রথেলজিকের জীবানু আমাদের রক্তে, ধমণীতে, ব্রেনে বহন করে যাচ্ছি। (চলবে)

আরো পড়ুন