ইসলাম ও কুসংস্কার পর্ব-৪

হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর যুগে জ্যোতিষ ও মূর্তিপূজার কুসংস্কার

by sondeshbd.com
305 views

আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী
মানবজাতির আদি ইতিহাস থেকে দেখা যায়—যখনই মানুষ আল্লাহর নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই সমাজে কুসংস্কার, অজ্ঞতা, মূর্তিপূজা, জ্যোতিষ, অশুভ ধারণা, দেবতার সন্তুষ্টির নামে অমানবিক রীতি এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন বিশ্বাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

কুসংস্কার হলো এমন বিশ্বাস, ধারণা বা আচরণ—যার কোনো যুক্তি, প্রমাণ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; তবুও সমাজে তা প্রচলিত। এক কথায়, কুসংস্কার হলো ভিত্তিহীন বিশ্বাস, যার পেছনে না থাকে যুক্তি, না থাকে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। মানুষের মনগড়া ধারণা, কাল্পনিক চিন্তাভাবনা কিংবা লোকমুখে প্রচলিত গল্প—এসব থেকেই সাধারণত এমন বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব রীতি-নীতি বংশপরম্পরায় চলে আসে, আর সমাজের মানুষ প্রশ্ন না করেই তা অনুসরণ করতে থাকে।

 

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন নবীর যুগে সংঘটিত এসব কুসংস্কারকে তুলে ধরে মানুষকে সত্য ও যুক্তির পথে আহ্বান জানিয়েছে। পূর্ববর্তী নবীগণ সালাম তাদের সমাজে এ অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। নীচে নবীভেদে সেসব কুসংস্কারের বিবরণ দেওয়া হলো।

 

৪. হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর যুগে জ্যোতিষ ও মূর্তিপূজার কুসংস্কার:
তাদের মূল কুসংস্কার ছিল:
সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রকে দেবতা মনে করা।
নক্ষত্রের অবস্থান মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
আগুনকে উপাস্য মানা।
জ্যোতিষীর বক্তব্যকে ঐশ্বরিক বার্তা মনে করা।ইব্রাহিম (আ.)এর জাতি ছিল জ্যোতিষে বিশ্বাসী, তারা নক্ষত্র, চাঁদ, সূর্যকে দেবতা মনে করত। কেউ কেউ আগুনকে উপাস্য মানত। তাদের ধারণা—গ্রহ তারার অবস্থান মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
কোরআন এসব কুসংস্কার তুলে ধরে ইব্রাহিম (আ.) এর যুক্তিনির্ভর প্রতিবাদ উল্লেখ করেছেন—
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তিনি চাঁদ উদিত দেখে বললেন এটাই আমার রব, “(অবশ্যই এটি ছিল যুক্তিমান যুক্তি প্রদর্শনের প্রক্রিয়া।)
সূরা আল-আন’আম: আয়াত: ৭৭

তাফসীর:
ইবন কাসীর (রহ) বলেন:
ইব্রাহিম (আ.) নিজের জাতিকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বস্তু ওঠে ও অস্ত যায়, তা কোনভাবেই উপাস্য হতে পারে না।

 

এভাবে তিনি জ্যোতিষভিত্তিক কুসংস্কার সম্পূর্ণ ভেঙে দেন। অর্থাৎ তিনি দেখালেন—যে বস্তু অস্ত যায়, তা কখনোই উপাস্য হতে পারে না। ইব্রাহিম (আ.) তার জাতিকে অন্ধ বিশ্বাসের অন্ধকার থেকে বের করে আনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা কুসংস্কারে অটল থেকে তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল।

 

বর্তমান সমাজে লক্ষ্য করলে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই যে বহু কুসংস্কার এখনো আমাদের মাঝে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে আছে। যুগের পর যুগ ধরে যে ভুল ধারাবাহিকতা চলে আসছে, তা আজও বিভিন্ন রূপে প্রতিফলিত হয়।

 

অতএব, একজন মুসলমানের উচিত হলো—আল্লাহ যখনই কোনো পরীক্ষা নেন, তখন নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা, এবং সকল প্রকার কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদেরকে দোয়া ও সাহায্য প্রার্থনার সঠিক পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। (চলবে)
লেখক:আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী
সিনিয়র আরবি শিক্ষক, এভাররোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পল্লবী,ঢাকা।
অনার্স (কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ), ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি,মদিনা।

আরো পড়ুন