বাঘ কাঁপানো’ শীতে রোদ মানেই ঠান্ডা কম হবে এই ধারণা ভুল

by sondeshbd.com
125 views

দেশজুড়ে জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীত ও শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) ঢাকার তথ্য মতে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। একইসঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও জানায়, আজ রাতে কুয়াশা বেল্ট আবারও বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা খুব বেশি সময় স্থায়ী হতে পারবে না। ফলে আগামীকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত রোদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে কুয়াশার দাপট তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।

তীব্র শীতের সতর্কতার বিষয়ে সংস্থাটি জানায়, শৈত্যপ্রবাহের মেয়াদ ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত হওয়ায় দেশজুড়ে ‘কনকনে’ শীত অনুভূত হবে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৬-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, (বিডব্লিউএফএসিডব্লিউসি) তীব্র শীতের সতর্কতার বিষয়ে জানায়, আগামীকাল প্রায় সারাদেশেই রোদের দেখা মিলতে পারে। অন্যদিকে শীত তার আসল রূপ দেখাতে পারে। কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পর আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল ও ভোরে শীতের অনুভূতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, রোদ মানেই শীত কম থাকবে এই ধারণা ভুল। আকাশ পরিষ্কার থাকায় রাতে ভূমির তাপ দ্রুত বিকিরণ হয়ে মহাশূন্যে চলে যাচ্ছে। ফলে রাত, ভোর ও সকালের দিকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কমে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর,পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান রাতের তাপমাত্রা (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে) নেমে আসতে পারে।

দিনে রোদ আর রাতে কনকনে ঠান্ডা, এই তীব্র তাপমাত্রা পার্থক্য মানবদেহের জন্য বেশ ক্ষতিকর। দিনে হালকা পোশাক পরে বাইরে থাকলে সন্ধ্যার পর হঠাৎ ঠান্ডায় পড়ার কারণে সর্দি-কাশি, জ্বও, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই আবহাওয়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। শরীর দ্রুত এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারায় অসুস্থতার আশঙ্কা বাড়ে।

(বিডব্লিউএফএসিডব্লিউসি) সতর্কতা হিসেবে জানায়: সকাল, রাত ও ভোরে অবশ্যই গরম কাপড় ব্যবহার করুন। দিনে রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন। ঠান্ডা পানি ও আইসজাতীয় খাবার কম খান। অসুস্থ বোধ করলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শিশু ও বয়ষ্কদের আলাদা যত্ন নিন। দিনে রোদের সাময়িক আরাম থাকলেও, রাতের শীত নীরবে শরীর দুর্বল করে দিতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্ক থাকুন। সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ

আরো পড়ুন