১৮ লাখ টাকার চুক্তিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, নওগাঁয় আটক ১৮

by sondeshbd.com
56 views

মাহবুবুজ্জামান সেতু

নওগাঁয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই সদস্যসহ মোট ১৮ জনকে আটক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ দল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের নীলসাগর হোটেল ও পোরশা রেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আটক প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই সদস্য হলেন— মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)।

পুলিশ সুপার জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এক প্রতারক কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নওগাঁ শহরের পোরশা রেস্ট হাউজে অবস্থান করছেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ১১ নম্বর কক্ষ থেকে আহসান হাবিব, মামুনুর রশিদ, পরীক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ও তার বাবা ফারাজুল ইসলামকে আটক করে।

এ সময় আহসান হাবিবের মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়। পরে হোটেলের অন্যান্য কক্ষে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন ও হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়। তাদের মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। অপর একটি কক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী সারোয়ারকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে পরীক্ষার্থী আবু সাঈদকেও আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবিব স্বীকার করেন, তিনি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী আতাউর রহমান ও ফারুক হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা এবং পরীক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের বাবা ফারাজুল ইসলামের কাছ থেকে অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের নীলসাগর হোটেলে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী রেহান জান্নাতকে আটক করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও ভুয়া প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার দুলাভাই মোহাম্মদ সাজ্জাদুল হক শালু ছয় লাখ টাকার মৌখিক চুক্তিতে তাকে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন।

এছাড়া মহাদেবপুর উপজেলায় একজন এবং শহরের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে অসৎ উপায় ও আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সদর থানা পুলিশ আরও আটজনকে আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুশফিকুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাবিবুল্লাহ হাবিব, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নিয়ামুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আটক সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ

আরো পড়ুন