নিজেদের ব্যবসায় পেরেক ঠুকছে সিলিন্ডার সিন্ডিকেটরা, বিক্রি বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলার

by sondeshbd.com
12 views

সাখাওয়াত হোসেন

গত সপ্তাহ দুয়েক থেকে দেশ জুড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলে আসছে। বর্তমানে এটি প্রকট ভাবে চেঁপে বসেছে ভোক্তাদের বুকের উপরে। গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নতুন গ্যাসের দাম ঘোষণা করে, যা সেইদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সেদিন ভোক্তাদের মনে আমার সঞ্চার হলেও ঢাকা শহরের অধিকাংশ দোকানেই গ্যাস সংকট দেখা দেয়। সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা ভেবেছিল মানুষ জিম্মি হয়ে চড়া দামে গ্যাস কিনবে, কিন্তু বাস্তবে তারা কাস্টমারকে জোর করে “বিকল্প” পথ চিনিয়ে দিয়েছে।

মিরপুরের বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে দেখা যায় গত ৯দিনে দোকানে বিক্রি বেড়েছে বৈদ্যুতিক ইনফ্রারেড, মাল্টি-কুকারের। মিরপুর-২ নম্বর কাচাঁবাজারের একটি দোকানে গেলে সেখানে কয়েকজন ভোক্তাকে ইনফ্রারেড বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে দেখা যায়। ধারনা করা যায় গত কয়েক দিনে দেশে কয়েক লাখ ইনফ্রারেড, ইন্ডাকশন ও মাল্টি-কুকার বিক্রি হয়েছে।

কৃত্রিম গ্যাস সংকট সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে হয়। গত ৪ জানুয়ারি প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা এলপিজি ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম হাঁকছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যেই একটি ভাল ব্রান্ডের ইনফ্রারেড চুলা ক্রয় করা যায়, এতে ভোক্তারা পিছু হটছে। ইলেকট্রনিক্স শোরুমগুলোতে রীতিমতো লাইন পড়ে গিয়েছে।

কারণ খুব সিম্পল। মানুষ যখন একবার দেখে যে সিলিন্ডার টানাটানি, ওজনে কম বা রান্নার মাঝপথে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার টেনশন থাকে সেখানে শুধু সুইচ টিপলেই ঝামেলাহীন রান্না হয়। এভাবে যারা বৈদ্যুতিক ইনফ্রারেড, মাল্টি-কুকারে রান্নায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে তারা আর পুরনো অভ্যাসে ফিরতে চাইবেনা এটাই স্বাভাবিক।

হিসাব বলে, সিলিন্ডারের বর্তমান আকাশছোঁয়া দামের চেয়ে বিদ্যুতের খরচ এখন অনেক সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। সুতরাং গ্যাস সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এভাবে দিনের পর দিন জনগনকে জিম্মি করতে থাকলে ভোক্তারা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

 

আরো পড়ুন