নূর-এ-আলম সিদ্দিক, বদলগাছী-মহাদেবপুর প্রতিনিধি:
কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক পরিশ্রম করে শাকসবজি উৎপাদন করে থাকেন। কিন্তু তারাই বর্তমানে সবচেয়ে অসহায়! কারণ তাদের উৎপাদিত সেইসব শাকসবজির ন্যায্য মূল্য তারা পাচ্ছে না। অথচ একই পণ্য বাজার সিন্ডিকেট শুধুমাত্র হাত বদল করে দুই থেকে তিন গুণ বা তারও অধিক পরিমাণ টাকায় বিক্রি করছেন। এই সমস্যা সমাধান করার কেউ নেই, কৃষকরা কোন রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন। যে টাকা খরচ করে নিজের শ্রম দিয়ে কৃষক ফসল উৎপাদন করছেন, সেই পরিমাণ লাভবান হতে পারছেন না। কারণ, বাজার সিন্ডিকেট এমনভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাতে কৃষকদের কিছু করার থাকে না। কিন্তু একই পণ্য শুধুমাত্র হাত বদল হয়ে তিন থেকে চার গুণ হয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে। অথচ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, ন্যায্য মূল্যটুকুও পাচ্ছেন না, এটি যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছে।
শনিবার, ৮ নভেম্বর, বদলগাছীতে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে এই প্রতিনিধির কথা হলে তারা সন্দেশবিডি ডট কমকে জানান, তারা কোন রকমে বেঁচে আছেন। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে তারা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন।
বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের মাঠে বসা সাপ্তাহিক হাটে (শনিবার, ৮ নভেম্বর) কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার সবজির পাইকারি মূল্য: আলু ১৪টাকা, বেগুন ৫৫ টাকা, লাউ ২৮ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, সিম ৪২ টাকা, টমেটো ৪৫ টাকা, কপি ২৩ টাকা পিচ, করলা ৩৮ টাকা, মিষ্টি লাউ ৮০ টাকা পিস, পটল ৪২ টাকা, পালং শাক ২৬ টাকা, সবুজ শাক ২২ টাকা, লাল শাক ১৮ টাকা, পুঁইশাক ২৩ টাকা, পাটের শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১৮ টাকা।
তবে ভিন্ন চিত্র বদলগাছী প্রতিদিনের বাজারের চাতালে। যেখানে ৫৫ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ৪২ টাকার পটল ৬০ টাকায়, ২৩ টাকার কপি ৪০ টাকায়, ৪২ টাকার সিম ৬০ টাকায়, ৪৫ টাকার টমেটো ৬০ টাকায়, ৪০ টাকার কচুর লতি ৬০ টাকায়, ৩৮ টাকার করলা ৫০ টাকায় আর ১৪ টাকার আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেদারছে! এভাবেই প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বদলগাছী উপজেলার খেটে-খাওয়া প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে।
উপজেলার কৃষি অফিসারের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি যেসব প্রণোদনা কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে সেই প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে বন্টন না করে দলীয় কোটায় ভাগাভাগি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ কৃষকগণ। বর্তমানে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন মধ্যবিত্ত কৃষকেরা, কারণ তারা নিজেরা পরিশ্রম করতে পারেন না। একজন লেবারের মূল্য ৭০০ টাকা, সঙ্গে সকালের খাবার। কৃষকরা যে ফসলই করুক না কেন, কোনভাবেই তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। একদিকে ফসলি জমিতে যে পরিমাণ টাকা খরচ করে ফসল উৎপাদন করছেন, তাতে করে শতকরা ৭০/৮০ ভাগ কৃষকের খরচের টাকা ফেরত আনাটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ তারা লোকসানের মধ্যে থাকছেন প্রতিনিয়ত।
বদলগাছী উপজেলার সকল হাটের বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা না হলে, কৃষকেরা কখনোই ন্যায্যমূল্য পাবেন না। প্রশাসনের উচিৎ অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া। প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা গেলে হয়তো সিন্ডিকেট ভাঙ্গা সম্ভব হবে। এমনটাই বলছেন বদলগাছীর প্রান্তিক কৃষকরা।

