৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও ইসলামিক শিক্ষা

আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী

by sondeshbd.com
189 views

নিষ্কলুষ চিন্তা-ভাবনা ও আত্মিক পবিত্রতা গঠনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। তাই মুসলমানদের শিক্ষা কারিকুলামে এমন উপাদান থাকা চাই, যা শিক্ষার্থীকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম করবে এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উপযোগী করবে।
সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় : সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থায় বয়স, যোগ্যতা ও জ্ঞান-বুদ্ধি অনুসারে পবিত্র কোরআন, তাফসির, হাদিস, ফিকাহ, আকাইদ সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ থাকবে।
পাশাপাশি বিজ্ঞানসহ আধুনিক কারিকুলামের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে তারা যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে পারে।”
প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : মূলত ইসলামের প্রধান শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে মাদরাসাব্যবস্থার বিস্তার ঘটে। মহানবী (সা.)-এর যুগে মক্কায় দারুল আরকাম বিন আবুল আরকাম ও পরবর্তী সময়ে মসজিদে নববী থেকেই মসজিদে এর যাত্রা শুরু।
ধীরে ধীরে এই কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে। মূলত সুদক্ষ শিক্ষকদের কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি। এক পর্যায়ে মুসলিম সভ্যতার বিকাশে তা মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
উমাইয়া, আব্বাসী শাসনামল ও পরবর্তী যুগে মুসলিম প্রধান শহরগুলোতে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
মূলত মসজিদকেন্দ্রিক এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ৭৩০ সালে তিউনিসিয়ায় উবাইদুল্লাহ বিন আল-হাবহাব জামি জাইতুনাহ বা জাইতুনাহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ৮৫৯ সালে মরক্কোর ফেজ নগরীতে ফাতিমা আল ফিহরির অর্থায়নে কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে করা হয়। ৯৭০ সালে ফাতেমি গভর্নর জাওহার আল-সিকিল্লি মিসরের কায়রোতে জামিউল আজহার প্রতিষ্ঠা করেন। ১০৫৭ সালে সেলজুক মন্ত্রী নিজামুল মুলুক বাগদাদে নিজামিয়াহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।১২২৭ সালে আব্বাসী খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহ ইরাকের বাগদাদে মুসতানসিরিয়্যাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এসব প্রতিষ্ঠান মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি ইসলাম ও জাগতিক বিষয়াবলির পাঠদানে সমন্বয় ছিল।

blank
মধ্যযুগের (৯০০-১২০০) বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানীরা এসব প্রতিষ্ঠানের হয়তো সরাসরি শিক্ষার্থী ছিল, নতুবা এসবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। যেমন গণিতবিদ আল-খাওরিজিমি, চিকিৎসাগুরু ইবনে সিনা, উদ্ভিববিজ্ঞানী আল-ইদরিসি, জ্যেতির্বিজ্ঞানী আল-বাত্তানি, দার্শনিক ও চিকিৎসক আবু বকর আল-রাজি, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-বেরুনি, দার্শনিক আল-কিন্দি, চিকিৎসক আল-জাহরাবি, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ইবনুল বাইতার, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনুন নাফিস, রসায়নবিদ জাবির ইবনে হাইয়ান, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ আল-খাইয়ামসহ আরো অনেকে যেমন ইসলামী পণ্ডিত ছিলেন, তেমনি নানা বিষয়ে তাদের গবেষণা ছিল সর্ববিদিত।
মুসলিম দেশে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা : আধুনিক যুগে সৌদি আরব, কাতার, আমিরাত, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের স্কুল-কলেজগুলোতে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি দেখা যায়। এসব দেশের মাদরাসাগুলোতেও প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় রয়েছে। তুরস্কের সরকারি ইমাম হাতিপ স্কুল ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সমন্বয় রয়েছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার স্কুলগুলোতেও প্রয়োজনীয় ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। পাকিস্তানেও মাদরাসার পাশাপাশি স্কুলগুলোতে কোরআন ও ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে দেখা যায়। ভারতের অনেক রাজ্যে সমন্বিত শিক্ষা কারিকুলামে ইসলামিক স্কুল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
মোটকথা, উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে। এরপর সুনির্দিষ্ট একটি বিষয়ে তার জন্য উচ্চশিক্ষা বা বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেকোনো বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের দীর্ঘ তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘ অনুশীলন জরুরি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে পর্যালোচনামূলক দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে এটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে—
১. কওমি মাদ্রাসা
২. আলিয়া মাদ্রাসা
৩. বাংলা ভার্সন
৪. ইংলিশ ভার্সন
৫. ইংলিশ মিডিয়াম
এই ব্যবস্থার প্রথম দুটি ভাগ— কওমি মাদ্রাসা ও আলিয়া মাদ্রাসা — মূলত কুরআন, হাদীস ও দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সাধারণ (জেনারেল) শিক্ষাও দেওয়া হয়, যাতে তারা পার্থিব জ্ঞানেও পিছিয়ে না থাকে।
বাংলা ভার্সন ও ইংলিশ ভার্সন শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকার নির্ধারিত ইসলামিক স্টাডিজ বই পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করে।
অন্যদিকে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো সাধারণত ক্যামব্রিজ ও এডেক্সেল সিলেবাসের অধীনে পরিচালিত হয়। এই সিলেবাসে ধর্মীয় বা ইসলামী শিক্ষার কোনো উল্লেখযোগ্য স্থান নেই। ফলে এই ধারার শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দ্বীনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।
বাস্তবচিত্রে দেখা যায়, আমাদের দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্তান বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অধ্যয়ন করছে। যার কারণে তারা ইসলামী জ্ঞান, বিশেষত কুরআন-হাদীস এবং তার আলোকে আমল করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের দ্বীনের ন্যূনতম জ্ঞান — অর্থাৎ ফরজ জ্ঞান — অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এটি দেশের প্রথম বেসরকারি ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা সমানভাবে প্রদান করা, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করতে পারে।
ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা
আমরা যদি ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাব্যবস্থার দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে তাদের মূল সিলেবাসে দ্বীনি শিক্ষার কোনো স্থান ছিল না। এর ফলে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দ্বীনি শিক্ষার অভাবেই কুরআন ও হাদীস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা ইসলামের নির্দেশিত পথ থেকে বিরত থেকে ধর্মীয় জ্ঞানের সঠিক বুঝ ছাড়াই নিজেদের জীবন পরিচালনা করছে ।
এরই প্রমাণ আমরা স্পষ্টভাবে পেয়েছি করোনা মহামারির সময়। তখন সমাজে এমন কিছু উদাহরণ দেখা গেছে যেখানে দ্বীনি শিক্ষার অভাবে অনেকেই পিতা-মাতার প্রতি অমানবিক আচরণ করেছে, এমনকি বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েছে। এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো— দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধের অভাব।
তবে ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর পরিচালক ও শিক্ষানুরাগীরা এই বাস্তবতাটি গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন। তারা উপলব্ধি করেছেন যে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যদি কেবল জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত হয় কিন্তু দ্বীনের জ্ঞান ও চেতনা না পায়, তাহলে তারা জীবনের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে।
এই চিন্তাভাবনা থেকে ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো সাধারণ (জেনারেল) শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক ফরজে আইন শিক্ষা চালু করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষার্থীদেরকে শেখানো হয়—
সহীহ ও শুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত
হিফজুল কুরআন,
ইসলামিক মরালিটি বা নৈতিকতা শিক্ষা,
কুরআন ও হাদীসের ভাষা, অর্থাৎ আরবি ভাষা শেখা।
এই শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ধর্মপ্রাণ অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা চান, তাদের সন্তান যেন আধুনিক জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি জ্ঞানেও শিক্ষিত হয়। ফলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
ফলস্বরূপ, আমরা এখন এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে দেখছি যারা জেনারেল শিক্ষায় দক্ষ, আবার দ্বীনের সঠিক বুঝ রাখে। তারা কুরআন-হাদীস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলেই তারা দুনিয়া ও আখিরাত— উভয় জগতে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। এবং বিশ্বের যে প্রান্তেই তারা থাকুক না কেন কোরআন হাদিসের সঠিক বুঝ তাদের থাকার কারণে কখনো বিপদে যাওয়ার সম্ভাবনা হবে না। ইনশাআল্লাহ
ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল: সময়ের দাবি
দীর্ঘদিন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কাজ করার সুবাদে আমি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা চিন্তিত। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আমাদের সন্তানরা ক্রমে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলা আজ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি, ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অভিভাবকদের কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ার ফলে অনেক সন্তান নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিকড় ভুলে যেতে শুরু করেছিল। ইসলামের ইতিহাস ও নৈতিকতার পাঠ তাদের জীবনে ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো এগিয়ে এসে তাদেরকে ইসলামের নৈতিকতা, কোরআন-হাদীসের দিকনির্দেশনা এবং সঠিক জীবনদর্শনের শিক্ষা দিতে শুরু করে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আবারও ইসলামের পথে ফিরে আসছে—যা সত্যিই আশার বিষয়।
অনেক অভিভাবককে বলতে শুনেছি, “আমার সন্তান বিখ্যাত ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছে, কিন্তু এখন সে আমাদের সঙ্গে বেয়াদবি করে।” এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সন্তানদের ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করানোর, যেন তারা শুধু ইংরেজি ও জেনারেল শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাতেও সমৃদ্ধ হয়—যাতে তারা বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে শেখে এবং একজন আদর্শ মুসলমান হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমানে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে বহু ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এভাররোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (লালমাটিয়া, মিরপুর, উত্তরা), লাইট হাউজ ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (গুলশান), ওয়েটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (লালমাটিয়া), স্পেকট্রাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (শান্তিনগর), বাসীরাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (উত্তরা), ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (মিরপুর ১০) এবং এডুকিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (এলিফ্যান্ট রোড)। এসব প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করছে শুরু থেকেই জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে।
এই সকল প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য হলো—আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা যে কোনো পেশার মানুষ হোক না কেন, তাদের হৃদয়ে যেন কোরআন-হাদীসের শিক্ষা ও সঠিক আকীদা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে।
সবশেষে বলা যায়, যারা চান তাদের সন্তান জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হোক, সহি কোরআন তিলাওয়াত শিখুক, আরবি ভাষায় দক্ষ হোক এবং ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুক—তাদের জন্য ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হতে পারে একটি চমৎকার ও সময়োপযোগী পছন্দ।

আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদিনা

আরো পড়ুন