সন্দেশ নামটি এসেছে সংস্কৃত “সন্দেশ” (সংবাদ, বার্তা) থেকে, যা সুসংবাদ বা বার্তা বাহকের জন্য
উপহার হিসেবে মিষ্টি বানানোর ঐতিয্য থেকে এসেছে।
এর সৃষ্টি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারনা করা হয়- দুধের ছানা ও চিনি মিশিয়ে
সন্দেশ তৈরি করা হয় যার সৃষ্টির জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়া।
১৮৫৪ সালে বাংলায় প্রথম রেলপথ হওযার আগে থেকেই গুপ্তিপাড়া থেকে নৌকা পথে
সন্দেশের প্রসার ঘটে কলকাতাসহ বাংলার বিভিন্ন স্খানে।
বাংলার মিষ্টির ইতিহাস বেশ প্রাচীন, যেখানে দেশীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি পর্তুগিজের মতো বিদেশীদেরও প্রভাব
লক্ষ করা যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের গুড় ও
পরিশোধিত চিনির মাধ্যমে সন্দেশ তৈরির যাত্রা শুরুর তথ্য পাওযা যায়।
বাংলার মিষ্টির ইতিহাসে শুধু ঐতিহ্যবাহী খাবারের গল্পই নয়,
এটি বাংলার সামাজিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক বিবর্তনের একটি প্রতিচ্ছবিও বটে।
বাঙ্গালী সংস্কৃতির মিষ্টিপ্রীতি প্রবাদপ্রতিম।
ঘরে বাইরে মুখে মুখে যে কোনভাবেই হাসির রেখা ফুটে উঠতেই মিষ্টির আগমনী বার্তা এসে যায়,
আর সন্দেশের কথাই আলাদা।
মজার বিষয় হলো সন্দেশের আবিধানিক অর্থ হলো সংবাদ( নিউজ, ইনফরমেশন, মেসেজ, রিপোর্ট)।
হিন্দি ভাষাতেও সংবাদকে বলা হযে থাকে সন্দেশ।
শিশু-কিশোরদের জ্ঞানের ভান্ডারে মন যোগাতে ১১৫ বছর আগে
জনপ্রিয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী প্রকাশ করেছিলেন
সন্দেশ নামের সাহিত্য পত্রিকা। এটি ছিল একটি বাংলা মাসিক শিশুতোষ পত্রিকা,
যা ১৯১৩ সালে তাঁর প্রকাশনা সংস্থা ‘মেসার্স ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সুকুমার রায় এবং পরে পৌত্র সত্যজিৎ রায় পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন।
সেই সন্দেশ ও মিষ্টির অগ্রযাত্রা এখনও থেমে নেই।
শুধু সন্দেশের ইতিহাস জানতে গিয়েই হাঁপিয়ে উঠলে হবে না!
আপনাদেরকে আমরা সন্দেশবিডি.কম এর পক্ষ থেকে জানিয়ে রাখছি,
সন্দেশের ইতিহাস নিযে আমরা কথা বললেও
আগামীতে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানাবিধ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো।
আমরা বিশ্বাস করি, অজস্র বস্তুনিষ্ঠ মিষ্টি তথ্যে ভরপুর সন্দেশবিডি.কম
আপনাদের ভালবাসা ও আস্থা খুঁজে নিতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।
সম্পাদক,
সন্দেশবিডি.কম

