সেন্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালাইজড (সিআরপি) এর অর্থায়নে নির্মিত ‘মানুষটিকে দেখ সিনেমাটি গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে ‘আনকাট’ সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে। এটি লিখেছেন এলসপেথ ওয়েলডি। ইংরেজি থেকে তা বাংলায় অনুবাদ করেছেন প্রযোজক, পরিচালক ও চলচ্চিত্রবিদ্যার শিক্ষক হুমায়ূন ফরিদ।
সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নন্দিত অভিনেতা ও পরিচালক গাজী রাকায়েত। তিনি অনূদিত চিত্রনাট্যটি সম্পাদনা করেছেন এবং হুমায়ূন ফরিদের সাথে যৌথভাবে সংলাপও লিখেছেন। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন: রাশনা শারমিন কেমি, তাহমিদ আরেফিন হক, তারিক আনাম খান, মিলি বাশার, মামুনুর রশীদ, রহমত আলী, গাজী রাকায়েত, শতাব্দী ওয়াদুদ, লারা লোটাস, এহসানুর রহমান, ইকবাল, কাজী নওশাবা, রাজীব সালেহীন, শর্মীমালা, হুমায়ূন ফরিদ, মৃণাল দত্ত, আনন্দ খালেদ, তাহমিনা মোনা, আদনান বাঙালী, মিজানুর রহমান, নমিতা দাস, মীর বরকত, অনিক খান, হোসনে আরা, রিয়াদ, আরিফ, মোহন ও আরও অনেকে। বাদ যাননি মহাত্মা ভ্যালেরি আন টেইলরও। এই সিনেমায় তিনিও অভিনয় করেছেন।
সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে ব্রিটিশ লেখক, প্রযোজক ও পরিচালক এলসপেথ ওয়েলডি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ‘সেরিব্রাল পালসি’ নিয়ে (মানুষটিকে দেখ)’ এর চিত্রনাট্যটি লিখেছেন। এতে দেখা যায় ফরিদা আহমেদ নামের প্রধান চরিত্রটি সেরিব্রাল পালসি-তে আক্রান্ত। সে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মেধাবী হলেও হুইল চেয়ারে চলা-ফেরা করে। মানুষ তাকে কটু কথা শোনায়, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। তবুও সে দমে যায় না। সে সেরিব্রাল পালসি-তে আক্রান্ত সব মানুষের মানবিক অধিকারটুকু অর্জনের জন্য লড়াই করে। এ কাজে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে ফিরোজ মালমুদ। সে কাজ করে পথশিশুদের নিয়ে। একসাথে পথ চলতে চলতে ফিরোজ ও ফরিদার মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সেই সম্পর্কে বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায় ফিরোজের বড়লোক বাবা মিস্টার মালমুদ। তারপর গল্প মোড় নেয় অন্য দিকে। চিত্রনাট্যকার এলসপেথ ওয়েলডি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সিনেমাকে দিন বদলের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি প্রায়ই বলেন সিনেমা সত্যি সত্যি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের পটভূমিতে লেখা তাঁর আগের সিনেমা ‘বিহঙ্গ এ তিনি সচেতনভাবে একটি মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেছেন। টেলিভিশনের জন্য লেখা ‘রেডিও ভাই’ তেও আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি।
সিআরপি’র সাথে ‘মানুষটিকে দেখ’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে যেয়ে প্রযোজক হুমায়ূন ফরিদ বলেন, “সিআরপি’র সাথে আমি গত দুই বছর ধরে এই প্রজেক্টে কাজ করছি। সিনেমাটা বানাচ্ছি। আমার এই দীর্ঘ সিনেমাটিক জার্নিতে এই সিনেমার লেখক ও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ঊষংঢ়বঃয ডধষফরব সব সময় পাশে ছিলেন। তিনি আমাদের ‘মানুষটিকে দেখ’ সিনেমার পুরো প্রোডাকশন টিমকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাইড করেছেন। তাঁর পাশাপাশি এই সিনেমার প্রযোজক-পরিচালকের মাথার উপর ছায়া হয়ে ছিলেন মহাত্মা ভ্যালেরি এ টেইলর। সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর সোহরাব স্যার আমাদের সব সমস্যা হাসিমুখে সমাধান করেছেন। আমাদের যখন যেটা দরকার হয়েছে দিয়েছেন। এইচআর ম্যানেজার আবেদা আপা ও নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার নুসরাত আপার কাছেও আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাদের সব কাজেই পাশে ছিলেন এবং গত দুই বছর ধরে পুরো হ্যাসেল-ফ্রি সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। এই সিনেমা প্রযোজনার সময় আমি সবচেয়ে বেশি জ্বালিয়েছি বিজয়া আপাকে। পুরো বছরজুড়ে তাঁর সাথে আমি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কথা বলেছি, এটা-সেটা চেয়েছি। তিনি আমাদের কখনোই হতাশ করেননি। ইন ফ্যাক্ট, এই সিনেমা বানাতে যেয়ে আমরা সিআরপি’র কতজনের যে সাহায্য নিয়েছি বা পেয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না”।
সিনেমাটি কবে নাগাদ হলে দেখা যাবে? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রযোজক হুমায়ূন ফরিদ বলেন, “আমরা মাত্রই সেন্সর সার্টিফিকেট পেলাম। এখন ঘটা করে সিনেমাটি হলে মুক্তি দিতে চাই। তার আগে অবশ্য প্রপার মার্কেটিং করতে হবে। সে জন্য কিছু সময় লাগবে। আমি আর রাকায়েত ভাই আগামী সপ্তাহে সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালকের সাথে বসবো। আলোচনা হবে। পরিচালক গাজী রাকায়েত ভাই সিনেমাটি একেবারে ২০২৬ সালের রোজার ঈদে রিলিজ দিতে চান। আমি ফেব্রুয়ারির ভালোবাসা দিবসের কথাও মাথায় রেখেছি। আসলে, আমরা সবাই মুখিয়ে আছি সিনেমাটা বড় পর্দায় দেখার জন্য। কিন্তু সবকিছু গুছিয়ে আনতে আমাদের আরও কিছুদিন সময় লাগবে। আর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে আসলে সিআরপি।” এ সিনেমা নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? জবাবে হুমায়ূন ফরিদ বলেন, “আমরা চাই সিনেমাটি অনেক মানুষ দেখুক। ‘সেরিব্রাল পালসি’ সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর হোক। লেখক এলসপেথ ওয়েলডি যে মেসেজ এই সিনেমায় দিয়েছেন ু তা সবাই জানুক, বুঝুক। সে লক্ষ্যে আমি আর রাকায়েত ভাই একটা প্রাথমিক পরিকল্পনাও করে রেখেছি। আমরা প্রথমেই সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সিআরপি’র ১৩টা ব্রাঞ্চে এই সিনেমার ১৩টা শো করতে চাই। তারপর ৬৪টা জেলায় আরও ৬৪টা শো করতে চাই। ‘মানুষটিকে দেখ সিনেমাটি হলে মুক্তি দেবার পর পরই আমরা তা একটা লিডিং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও মুক্তি দেব। কিছুদিন পরে এটি টিভিতেও দেখানোর ব্যবস্থা করবো। এছাড়া, সিআরপি’র ডেডিকেটেড ইউটিউব চ্যানেলেও সিনেমাটি থাকবে।”

