বদলে যাওয়া পৃথিবীর গান

জিল্লুর রহমান শুভ্র

by sondeshbd.com
237 views

একদিন ভাতের লড়াই শেষ হবে

রাতের পানশালায় বিপ্লবীরা ঝিমুবে

তাদের পানপাত্রে থাকবে বিষাদের অসুখ।

সুন্দরী বারমেইডরা বিবস্ত্র শরীরে পরিবেশন করবে

পোকামাকড়, কবর থেকে তোলা লাশের ঝলসানো মাংস

(বৃক্ক, যকৃৎ, হৃৎপিণ্ড ও মগজ একটু চড়া দামে),

নারী ও শিশুদের টাটকা রক্ত;

তাদের মুখের মধু হবে অশ্লীল গালিগালাজ

স্তন যুগল ঘটাবে পরমাণু ফিউশন।

বিতাড়িত সুন্দর পান করবে অসুন্দরের হলাহল

সিংহাসনে বসবে সেই সমস্ত জড়বুদ্ধির মনুষ

যাদের জিভে হাঙরের খিদে; গিলে খাবে গোধূলির সমুদ্র,

সবুজ প্যারাবন, শাদা বরফের অর্কেস্ট্রা।

ধানের শীষে জ¦লবে না আগুন

ফসলের রং হবে চিমনি ধোঁয়ার মতো।

মনুমেন্ট, নান্দনিক দৃশ্যসমূহ

যাবে উন্মাদের সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত  হালাকু খানদের দখলে;

বিছিয়ে রাখবে শজারুর কাঁটা, ধোঁয়ার কুÐলীতে

হি হি করে হাসবে প্রহেলিকার বাঁদর।

বারুদ ও কার্তুজের ট্যাটু আঁকা দুর্বৃত্তদের অট্টহাসিতে

ঝুরঝুর করে খসে পড়বে শান্তির পলস্তারা

চরিত্রহরণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াবেন সুভাষণের পাখিরা

পূঁজ, বিষ্ঠা, কফ, শ্লেষ্মা সঞ্জীবনী সুধার মোড়কে

পরিবেশন করা হবে মহাকাশযানে

ভেঙে পড়বে মেঘের সৌষ্ঠব

ব্যাসকুটের রঙ্গভূমি হবে চিন্তার জগত।

প্রাণ হারানোর ভয়ে ধনকুবেররা উঠবে মগডালে

হা করে তাকিয়ে দেখবে লুম্পেন প্রলেতারিয়েত।

কুলীন ব্রাহ্মণরা চোখ রাঙালে

নমঃশুদ্ররা উপড়ে ফেলবে তাদের চোখ;

অতঃপর ভোজন উৎসব করবে তারা।

মানুষে মানুষে  ভেদরেখা মুছে যাবে

মানুষের পরিচয় হবে শুধুমাত্র মানুষ;

তাদের বিছানায় কিলবিল করবে নরকের কীট

যন্ত্রণার হাতকড়া পরে দিগি¦দিক ছুটবে,

তাদের দীর্ঘশ্বাস পৌঁছে যাবে নক্ষত্রে নক্ষত্রে।

নির্জনতা, একাকিত্ব,সংশয়, সন্দেহ ও পরস্পর আস্থাহীনতা

বদলে দেবে মুখের আদল,

হতাশার গলগণ্ড ভারী হবে তাদের চোখের নিচে;

ব্ল্যাক প্যান্থারের হিংস্র মুখের মতো লোমশ মুখ

ভেসে উঠবে আয়নায়, আঁতকে উঠবে তারা নিজেরাই।

ভয় ও আতঙ্কের মুহুর্মুহু আক্রমণে

ঝাঁঝরা হবে তাদের হৃৎপিণ্ড,

দোকানে দোকানে শোভা পাবে মাথার খুলি ও হাড়গোড়;

অনিষ্ট দেবতারা থাকবে টোটকা চিকিৎসকদের ভূমিকায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুঁজে দেবে ঈশ^রের ঠিকানা

জিকিরকারিদের প্রহসনের পাত্র হবেন তিনি;

ধর্ম ও ধর্মহীনতার বীভৎস লড়াইয়ে

ইমাম মাহাদিরা পরাজিত হবে।

ব্যভিচার, বিকৃত যৌনাচারের উদ্দণ্ড প্রতাপ

সকল নীতি-নৈতিকতা ঠেলে দেবে গুহার অন্ধকারে;

ড্রাম বাজিয়ে ধর্ষকদের পুরস্কৃত করা হবে,

বাবা তার যুবতি কন্যার সঙ্গে,

মা তার সাবালক ছেলের সঙ্গে,

এবং ভাই তার স্বীয় বোনের সঙ্গে

মাতবে বস্ত্রহরণের বিতিকিচ্ছি খেলায়;

এতসব ব্রাত্য দেখে লজ্জা ও ঘৃণায় চাঁদ তার প্রসন্ন মুখ

অবনত করবে ঘাতক তরবারির নিচে।

মস্তিষ্ক নয়, সুঠাম দেহের সৌকর্য নয়,

নয় বেদনাবিহীন নক্ষত্রের গোপন রতিখেলা

পৌরুষের মাপকাঠি হবে শিশ্নের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ;

আর তাদের অণ্ডকোষে ঝুলবে দাগি আসামির ডাঁডুকা।

স্ফীতবক্ষা নারীরা পূজণীয় হবে

তাদের কোমরের বিছা হবে বিষধর সাপ

হাসিতে রং ছড়াবে দাঁতাল শুয়োর, আর

প্রসূতিরা প্রসব করবে হাতির মৃত শাবক।

পচে যাওয়া গলে যাওয়া পৃথিবীতে রুচির মন্বন্তর

আসবে, আসতেই হবে

যাদের শরীরে দগদগে ঘা তারাই বিবেচিত হবে কন্দর্প,

তৃতীয় লিঙ্গরা অপ্সরী; যৌনতাই হবে এদের শিল্প

রুচিবাগীশরা চলে যাবে মোমের জাদুঘরে।

হৃদয় হবে শুষ্ক মরুভূমি

ভালোবাসা প্ল্যাস্টিক পণ্যের মতো বাহারি ঠমক দেখাবে

যৌবন বিক্রি হবে খুচরো মুদ্রায়;

হিতোপদেশ চলে যাবে লাশকাটা ঘরে, আর

পোস্টারে ফেস্টুনে বিজ্ঞাপিত হবে কুপরামর্শ।

গন্ধরাজ হারাবে তার সুঘ্রাণ

নাকে নিলেই বমি আসবে;

দামি রেস্তরাঁয় থাকবে পচা শামুকের সালাদ,

গন্ধবেনেদের কাটা চামুচ ব্যস্তসমস্ত গন্ধমূষিকে;

আর তারা ফিসফিস করে কথা বলবে।

অঢেল বিষয়-তৃষ্ণার সমুদ্র আড়মোড়া ভাঙবে

জেগে উঠবে বালুকাময় মানমন্দির

ভুল সঙ্কেতে নাবিকরা পথ হারাবে

পোতাশ্রয়ে অপেক্ষা করবে অর্থপিশাচরা;

তাদের হাতে থাকবে প্ল্যাকার্ডঃ ক্রিপ্টোগড জিন্দাবাদ!

নদী বহন করবে খোসপাঁচড়ার জীবাণু

দুর্দমনীয় খোঁয়ারিরা তাদের খোঁয়ার ভাঙতে

পান করবে এসব জল, আর

মৎস্যজীবীদের কণ্ডূয়ন প্রবৃত্তি দেখে হাসবে লাজুক মাছ।

বৃক্ষরাও কম কীসে! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত খুঁটবে না

দরকষাকষি করবে কতটা অক্সিজেন দেবে,

আর কতটা শীতল ছায়া!

ফিবছর তুষারঝড়, গিরিখাতে বইবে অগ্নিজল, এবং

দাবানল ছেলেখেলায় মত্ত হবে

নিউটনের সূত্র অসাড় প্রমাণ হবে

পৃথিবী কালাজ¦রের কাঁপুনিতে ভুগবে, এবং

ব্রিজ, কালভার্ট, বুরুজ ধ্বসে পড়বে।

অহরহ মিথ্যে বুলি কপচানোর দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র

সমাজ পবিত্র হবে রাজনীতিবিদগণের উত্থিত শিশ্নের বীর্যপাতে

আইনের শাসন কুঁজো হয়ে হাঁটবে অপরাধীদের বন্দি শিবিরে।

মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় চলবে শাটডাউন

ধর্মাচার হবে লোকদেখানো নোনতা হাসি

অন্ধ ঘোড়াতঙ্কে থাকবে মূল্যবোধের রাজা-রানি, এবং

সপ্তম আশ্চর্য বলতে বিরান প্রান্তর।

বিষ্টিভদ্রার উৎপাতে জ্যোতিষীদের কপালের ভাঁজে

ফুটবে বিস্ময়চিহ্ন, কর্কশ শোনাবে বসন্তসখার গান; আর

মধুমক্ষিকারা আটকে থাকবে কাঠগোলাপের বিভ্রান্ত মায়ায়।

প্রজ্ঞাপন জারি হবে উলুবনে

নিষিদ্ধ হবে বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই

হৃদয় চলে যাবে অপচ্ছায়াদের করাতকলে

থাকবে না হৃদয় দেয়া-নেয়ার ললিত ভাষা

দ্বিখণ্ডিত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে, আশরাফুল মখলুকাত ধুকবে

ধুকতে ধুকতে এসব কারাভান কুচফলের রং মেখে উদ্ভ্রান্ত ছুটবে

মৃত্যু উপত্যকার গভীর আশ্লেষে; যেখানে থাকবে না

কারণজল

গোধুমচূর্ণ, এবং

আশা।

মানুষের ভাবনার পৃথিবী সংক্ষিপ্ত হয়ে আসবে

শয়নে-স্বপনে দেখবে কেবল মৃতদের মুখ।

তখনও বিপ্লব হতে পারে

তবে কে কতটা আগে নিজেকে বধ করবে তার তরে!

আরো পড়ুন