সরদার মেহেদী হাসান
স্ট্যান্ড আপ কমেডি মানেই আপনি দর্শকদের সামনে দাড়িয়ে অবলীলায়, সাবলীলভাবে মজার মজার রসিকতা পরিবেশন করে যাবেন, দর্শকরা আনন্দ উপভোগ করবেন, হাততালি দিবেন।
আপনি যদি জনপ্রিয় স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হয়ে উঠতে চান, তাহলে আপনাকে কমেডির বিষয়ে যথেষ্ট পরিমানে পড়ালেখা ও ধারনা রাখতে হবে। স্টান্ড আপ কমেডিতে দুইটি বেশ পরিচিত শব্দ রয়েছে: ভেজ এবং নন-ভেজ, অর্থাৎ আমিষ ও নিরামিষ।
আমিষ খাবার( ভারতীয় ইংরেজিতে কখনও কখনও আমিষ খাবার হিসাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়) মাংস ( লাল মাংস, হাঁস-মুরগি, সামুদ্রিক খাবার, বা অন্য কোনও প্রাণীর মাংস) এবং কখনও কখনও ডিমও থাকে। এই শব্দটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলিতে প্রচলিত হলেও অন্য কোথাও সাধারণ নয়।
ভেজ বা নিরামিষ রসিকতাকে পরিচ্ছন্ন, নিস্পাপ হাস্যরস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পারিবারিক এবং মিশ্র সঙ্গসহ সকল শ্রোতাদের জন্য উপযুক্ত।
নন-ভেজ-জেকস হল একটি ভারতীয় ইংরেজি শব্দ যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অশ্লীল, বা নোংরা জোকসকে বোঝায়, যেখানে যৌন ইঙ্গিত বা স্পষ্ট বিষয থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের হাসির উদ্দেশ্যে তৈরি সেক্সি রসিকতাগুলিকে নন-ভেজ-রসিকতা বলা হয়।
এই শব্দটির উৎপত্তি ১৯৭০ এর দশকে দক্ষিণ ভারতে একটি রসিকতা থেকে বলে মনে করা হয়। যেখানে কিছু রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মজার বিষয়বস্তু মাংস খাওয়ার মতোই সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হত। তখন থেকে এই শব্দটি ভারত জুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এই শব্দটি মূলত ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সাংস্কৃতিকভাবে নিরামিষ এবং আমিষ খাবারের মধ্যে একটি পার্থক্য সূচক শব্দ হিসেবেই ব্যহৃত হচ্ছে।
নন-ভেজ-রসিকতা ভদ্র সমাজের জন্য অপবিত্র বা অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হলেও এটি সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে বা সমবয়সী গোষ্ঠীর মধ্যে হাস্যরস সৃষ্টির জন্য বহুলভাবে উপস্থাপিত হয়।
নন-ভেজ- রসিকতার মূল বৈশিষ্ট্য :
(১) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রচিত:
রসবোধ সাধারণত যৌন সম্পর্ক, ইঙ্গিত পূর্ণ পরিস্থিতি এবং রক্ষণশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত অন্যান্য বিষয়ের চারিপাশে আবর্তিত হয়।
(২) প্রসঙ্গ নির্দিষ্ট:
বর্ণনাকারী হিসেবে আমিষ শব্দটি ব্যবহার করলে বোঝা যায় রসিকতাটি সমমনা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এবং একান্তে বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে উপভোগ করা উচিৎ।
(৩) দ্বিগুন অর্থ বা ডবল মিনিংস:
এই রসিকতাগুলি প্রায়শই দ্বিগুণ প্রবেশদ্বার বা ইঙ্গিতের উপর নির্ভর করে অর্থাৎ এই ধরনের জোকসগুলোর অর্থ ডবল মিনিংসের মধ্যে ঘুরপাক খায়।
(৪) সাংস্কৃতিক উৎপত্তি :
শব্দটি সম্ভবত উৎপত্তি হয়েছিল এমন একটি সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে যেখানে নিরামিষভোজীকে বিশুদ্ধ বা আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হত। আর অন্য দিকে মাংস খাওয়া বা আমিষকে অপবিত্র বা নোংরা রসিকতা বলে মনে করা হতো।
একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানকে নন ভেজ কমেডি বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত, চতুর ভাবে উপস্থাপনের কৌশল রপ্ত করতে হবে। স্থান-কাল-পাত্র বুঝে সঠিক নন-ভেজ কন্টেন্ট দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারলে তবেই একজন সাধারণ কমেডিয়ান দর্শকদের কাছে অসাধারণ কমেডিয়ান হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবেন।
একজন কমেডিয়ানকে লক্ষ্য রাখতে হবে তার সামনে কোন বযসী দর্শকদের সমাগম হয়েছে। দর্শকদের বয়সের উপর ভিত্তি করে, পরিবেশের কথা বিবেচনা করে ভেজ অথবা নন-ভেজ রসিকতা পরিবেশন করা উচিৎ। (চলবে)

