আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী
মানবজাতির আদি ইতিহাস থেকে দেখা যায়—যখনই মানুষ আল্লাহর নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই সমাজে কুসংস্কার, অজ্ঞতা, মূর্তিপূজা, জ্যোতিষ, অশুভ ধারণা, দেবতার সন্তুষ্টির নামে অমানবিক রীতি এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন বিশ্বাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কুসংস্কার হলো এমন বিশ্বাস, ধারণা বা আচরণ—যার কোনো যুক্তি, প্রমাণ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; তবুও সমাজে তা প্রচলিত। এক কথায়, কুসংস্কার হলো ভিত্তিহীন বিশ্বাস, যার পেছনে না থাকে যুক্তি, না থাকে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। মানুষের মনগড়া ধারণা, কাল্পনিক চিন্তাভাবনা কিংবা লোকমুখে প্রচলিত গল্প—এসব থেকেই সাধারণত এমন বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব রীতি-নীতি বংশপরম্পরায় চলে আসে, আর সমাজের মানুষ প্রশ্ন না করেই তা অনুসরণ করতে থাকে।
পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন নবীর যুগে সংঘটিত এসব কুসংস্কারকে তুলে ধরে মানুষকে সত্য ও যুক্তির পথে আহ্বান জানিয়েছে। পূর্ববর্তী নবীগণ সালাম তাদের সমাজে এ অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। নীচে নবীভেদে সেসব কুসংস্কারের বিবরণ দেওয়া হলো।
৫. হযরত লূত (আ.) সামাজিক দুর্নীতি ও অশুভ বিশ্বাস:
হযরত লূত (আ.) এর জাতি অশ্লীল কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত ছিল এবং পাপকে ‘স্বাধীনতা’ মনে করত। তারা নবীর অতিথিদের অশুভ মনে করত এবং মনে করত—অপরিচিত আগন্তুক এলেই বিপদ আসে। এভাবে তাদের সমাজ কুসংস্কার ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়।
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছেঃ “তারা বলল: আমরা কি তোমাকে অপরিচিত কাউকে আনতে নিষেধ করিনি?” সূরা হূদ: আয়াত: ৭০
এ ছিল অশুভ ভীতির কুসংস্কার।
৬. হযরত শু‘ঈব (আ.) ব্যবসায়িক কুসংস্কার:
মূল কুসংস্কার
প্রতারণা করলে বরকত বাড়ে
কম মেপে দিলে লাভ হয়
বাজারে মূর্তির পূজা করলে বানিজ্য রক্ষা পায়
নবীর দাওয়াত ব্যবসায়ে অশুভ
তারা নবীকে বলেছিল: পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে মহাবিপর্যয়ে ধ্বংস করেন।
সূরা হুদ: আয়াত: ৮৭
বর্তমান সমাজে লক্ষ্য করলে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই যে বহু কুসংস্কার এখনো আমাদের মাঝে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে আছে। যুগের পর যুগ ধরে যে ভুল ধারাবাহিকতা চলে আসছে, তা আজও বিভিন্ন রূপে প্রতিফলিত হয়।
অতএব, একজন মুসলমানের উচিত হলো—আল্লাহ যখনই কোনো পরীক্ষা নেন, তখন নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা, এবং সকল প্রকার কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেই আমাদেরকে দোয়া ও সাহায্য প্রার্থনার সঠিক পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। (চলবে)
লেখক:আহমাদ হিজবুল্লাহ মাদানী
সিনিয়র আরবি শিক্ষক, এভাররোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পল্লবী,ঢাকা।
অনার্স (কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ), ডিপ্লোমা ইন অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি,মদিনা।

