দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি নয়, লাগবে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি

by sondeshbd.com
39 views

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য ‍দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি ছিলো, গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। এতদিন প্রচলিত ছিলো, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আদালত বলেন, এ বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।

এরই ধারাবাহিকতায়, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে,ঠিক এমনই এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

আরবিট্রেশন কাউন্সিল হলো একটি নিরপেক্ষ সংস্থা যা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে, সাধারণত এটি সালিশির মাধ্যমে আইনি বিবাদ, বিশেষ করে বাণিজ্যিক বা শ্রম বিরোধে, একটি বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকে; বাংলাদেশে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে, যেখানে স্বামী-স্ত্রীকে আপস করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এটি সাধারণত কোনো আদালত নয়, বরং আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির একটি প্রক্রিয়া, যেখানে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ (সালিশ) সিদ্ধান্ত নেয়।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এরই মধ্যে, আদালতে দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের দাবি, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রিট করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে বহু পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে। ফলে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

আরো পড়ুন