স্টোরি অফ ব্রথেলজিক পর্ব – ০৮

সরদার মেহেদী হাসান

by sondeshbd.com
349 views

মেরী নিষিদ্ধপল্লীতে জন্মগ্রহণকৃত একটি শিশু, একজন প্রতিকী। মেরীর মতো অসংখ্য নারী শিশু নিষিদ্দপল্লীতে জন্মগ্রহণ করছে। তাদের চেহারা জনসম্মুখে দেখানো মানা, কারন তারা নিষিদ্ধপল্লীর মানুষ। মেরী’র মতো অন্য দশজনের চেহারা জনসম্বুখে দেখানো খারাপ কিছু নয়, খারাপ হচ্ছে আমাদের বিচার, বিবেক, বুদ্ধি, চরিত্র ও আচরণের।

সভ্য সমাজের কেউ একজন মেরী’র মতো মেয়েদের গোপনে বিয়ে করে বাড়ীতে নিয়ে যাবে। ছেলের পরিবার ও সমাজ তাকে সহজে মেনে নিবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। আগে সমাজের বিবেকের শুদ্ধিকরণ করতে হবে, এদেরকে সহজে মেনে নেবার দায়িত্ব নিতে হবে এই সভ্য সমাজের, সরকারের তবেই একক ভাবে কোন একজন ছেলে তাদেরকে সহজেই নিজের জীবনের সঙ্গে মেনে নেবার স্বপ্ন দেখবে, চিন্তা করবে রঙ্গিন ভালবাসার জালে তাদেরকে আবদ্ধ করতে। এভাবেই হয়তবা একদিন সমাজ বা পৃথিবী থেকে নিষিদ্ধপল্লীর গ্লানি মুছে যাবে, তবে সেইটি সহজে হবার নয়।

আমি চলতি পথে শিউলির সাথে কথা বলি, বন্ধুত্ব করি। কথা বলি, গল্প করি, ঘুরিফিরি। শিউলির জীবনের আদিপাত্যের খোজখবর নিতে শুরু করি। শিউলি এই নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি হয়ে আসা একজন নারী শিশু, আজ সে পরিপূর্ণ নারী। তার জীবনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ব্রথেলজিকের গোপন মনমন্ত্র।

বাদল সাহেবের শরীর ইদানিং তেমনটা ভাল যাচ্ছে না। বয়স প্রায় পঞ্চাশ ছুই ছুই করছে। নিজের এনজিওর দিকে পুরুদমে নজর দেওয়ার কারনে পরিবারের জন্য বাড়তি সময় বের করাই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে তার ও তার পরিবারের জন্য। নিজের পরিবার বলতে ঘরে সুন্দরী স্ত্রী, দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে।

বাদল প্রেম করে বিয়ে করেছিল মিতালীকে। মিতালী বয়সে বাদলের চেয়ে বছর পাঁচেকের ছোট, সেই হিসেবে মিতালীর বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। মিতালীর শরীর দেখে সহজে বোঝার উপায় নেই তার ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। মিতালী তার শরীরের সৌন্দর্যের প্রতি বেশ সচেতন। সে নিয়মিত ফেসিয়াল করে, মাঝে মধ্যে স্পা’ও করিয়ে নেয়।

বড় ছেলেটির জন্মের পর মিতালী কিছুদিন বুকের দুধ খাইয়েছিল, তারপর সে কখনও অন্য দুটি বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করেনি কারন বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ালে বুকের সৌন্দর্যটা নষ্ট হয়ে যাবে এই ভয়ে।

তার শরীর এই বয়সেও বেশ আকর্ষনীয় তা সে বেশ ভালভাবেই বুঝতে পারে মিতালী। বাড়ির বাহিরে বেরুলে সবাই হা করে তাকিয়ে থাকে তার শরীরের দিকে। প্রথম প্রথম একটু আধটু তার লজ্জা লাগলেও এখন অতটা লজ্জা লাগে না। মিতালী তার স্বামীর দৃষ্টি সব সময় তার দিকে ফেরানোর জন্য তার শরীরকে আকর্ষনীয় করে রাখে। র্তাপরও মিতালী তার স্বামীর নজর কাড়তে পাওে না।

তোর জন্য আমার জীবনটা শেষ করে দিলাম, তোর জন্য বাচ্চাদেরও ঠিকমতো দুধ খেতে দেইনি, তোকে কাছে পাবার জন্য কি না করেছি, তুই একটা জানোয়ার!
তুই একটা কুকুর!
তোরে কুকুর দিয়ে…
এরকম অশ্লীল খিস্তি-খেউর করা মিতালীর নিত্যদিনের কাজ।
মিতালীকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই খিস্তি-খেউর শুরু করতে হয় এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগমহুর্ত পর্যন্ত খিস্তি-খেউর চালিয়ে যেতে হয়।
ঐ যে…কথায় বলে,
মানুষ অভ্যাসের দাস।
মিতালীর ঠিক মনে নেই কবে থেকে সে এমনটা হয়ে গিয়েছে।
সে যখন প্রথম বাদলের ঘরে বউ হয়ে এসেছে তখন তার সংসারে ভালবাসার কমতি ছিল না। সব সময়ই তারা ভালবাসার জালে আটকিয়ে থাকত।

এখন মিতালীর কপালে কোন ভালবাসা নেই।
ভালবাসা থাকবে কেন???
শুয়োরের বাচ্চা সব চুষে খেয়ে নিয়েছে,
এখন যা আছে তা শুধুই তলানী।
শুয়োর রাত নেই, দিন নেই শুধু আমার দেহ নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছে, অতিষ্ঠ করে তুলেছিল জীবনটাকে।

মিতালীর এমন আচরন গা সহা হয়ে গেছে তার সন্তানদের কাছে, তারা জন্মের পর থেকেই বাবা-মা’র ঝগড়াঝাঁটি দেখে আসছে। তারপরও বিষয়টি সন্তানেরা ভাল চোখে দেখে না।
আজকে সাত সকালে ঘুম থেকে উঠেই মিতালী তার নিজের গোসল সেরে নেওয়ার জন্য গোসল খানায় প্রবেশ করেছে। বিয়ের পর থেকেই প্রতি সকালেই ঘুম থেকে উঠে নিজের গোসল সেরে মিতালী তার ঘরের অন্য সকল কাজে হাত দিত, কিন্তু সময়ের গতির বেড়াজালে মিতালীর সেই গোসলের সময়ের পরিবর্তন হয়েছে,
বিষয়টা এমন…
করলে’ত করি…না করলে’ত করি না।

গতরাতে বাদল ঘুমের মধ্যে চুপ থাকলেও মিতালী নিজের গড়জেই বাদলের শরীরের উপর নিজের শরীরকে সমর্পণ করেছিল। আজ খুব সকালে ওয়াশরুমে ঢুকেছে, মিতালীর শরীরে পানির ফোয়ারা ঝাপটে পড়তেই শরীরে একটা ঝাকুনি অনুভব করলো। মিতালী শরীরের সমস্ত কাপর খোলার পর দরজার সিটকানি লাগিয়ে দিল, সে নিমেশেই হারিয়ে গিয়েছিল বিয়ের প্রথম দিনের সেই স্মৃতি গুলোতে, আজকে গোসলখানায় সে একা, বাদল শোবার ঘরে অঘোরে ঘুমোচ্ছে, লোকটাকে ইদানিং মিতালীর খুব অচেনা অচেনা লাগে। জীবনের অতি কাছের মানুষটি ধীরে ধীরে অনেক দুরে সরে যেতে শুরু করছে।
বাদল’ ত এমন ছিল না! (চলবে)

আরো পড়ুন