নওগাঁ জেলার শিক্ষাঙ্গনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল। সীমাবদ্ধতা জয় করে একটি মফস্বল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে, এই স্কুলটি এখন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বদলগাছী উপজেলা সদরে স্ব-দর্পে দাঁড়িয়ে থাকা ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত “বদলগাছী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়” – শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য মিনার।
নওগাঁ জেলার শিক্ষা মানচিত্রে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল’। টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে স্কুলটি তার ঐতিহ্যের মুকুটে যোগ করেছে এক নতুন পালক। ১৬টি কঠোর মানদণ্ডে বিচারকদের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো স্মারক নং-৩৭.০২.৬৪০০.০০০০.৫০.০০১.২৬-২৪এ ফলাফল ঘোষনা করেন নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভার:) মো: শাহাদৎ হোসেন।
একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হওয়ার জন্য যে সকল গুণাবলি প্রয়োজন, তার প্রায় সবকটিতেই ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে এই স্কুল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি কর্তৃক নির্ধারিত ১৬টি ক্যাটাগরির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
একাডেমিক ফলাফল: পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ধারাবাহিক সাফল্য।
অবকাঠামো ও পরিবেশ: চমৎকার ভৌত অবকাঠামো, সুপেয় পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
আধুনিক শিক্ষা: মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও উন্নত কম্পিউটার ল্যাবের মাধ্যমে যুগোপযোগী পাঠদান।
সহশিক্ষা কার্যক্রম: স্কাউট, গার্লস গাইড, বিএনসিসি এবং নিয়মিত বিজ্ঞান মেলার আয়োজন।
শৃঙ্খলার মান: প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন।
প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যের পথটি খুব একটা সহজ ছিল না। শিক্ষক স্বল্পতা এবং নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্কুলটি দমে যায়নি। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোজাফফর হোসেন উকিল স্যারের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এই অর্জনের মূল কারিগর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটি সুসমন্বয় তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে ফলাফলে।
সরকারি নির্দেশনায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ১১০ জন শিক্ষার্থী লটারিতে সুযোগ পায়। অথচ পাশে বদলগাছী সরকারি মডেল প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়নি বেশি। অনেক ভাল স্টুডেন্ট ভর্তি হতে পারেনি। অভিভাবকদের আবেদন অত্র স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডিজি অফিসে জমা দিয়েছেন। আমরা এলাকাবাসী আশাবাদী নতুন শাখা খোলার মাধ্যমে আরো কিছু ছাত্রছাত্রী সুযোগ পাবে এই স্কুলে।
স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন-
”শিক্ষক সংকট থাকলেও আমাদের ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের কমতি ছিল না। আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশে সমান গুরুত্ব দেই।”
সাধারণ এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মতে, একটি সরকারি স্কুল যখন জেলা পর্যায়ে টানা দুবার শ্রেষ্ঠ হয়, তখন তা পুরো উপজেলার জন্য সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অর্জন ভবিষ্যতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং এলাকার শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বদলগাছী সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুলের এই অগ্রযাত্রা কেবল জেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও একদিন শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
তাহির ইবনে মোহাম্মাদ নয়ন, লেখক ও প্রকাশক

